শেখ রাসেলের নাম কার নামানুসারে রাখা হয় জানালেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নাম কার নামানুসারে রাখা হয়েছিল তা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে জানিয়েছেন, তার ছোট ভাই শেখ রাসেলের নাম ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে রাখা হয়েছিল।

‘রাসেল’ নামটি তার মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছার দেয়া উল্লে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে, নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন।

এ সময় রাসেলের জন্মের সময়টার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রাসেল যেদিন জন্ম নিয়েছে, সে দিনের কথাটা এখনও আমার মনে পড়ে। একটা ছোট্ট শিশু আসবে আমাদের পরিবারে।  আমি, কামাল, জামাল, রেহানা- আমরা সবাই খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম।  কখন সেই শিশুটির কান্না আমরা শুনব, কখন তার আওয়াজটা পাব, কখন তাকে কোলে তুলে নেব।  আর সেই ক্ষণটা যখন এল, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সময় ছিল।  ছোট্ট শিশুটি আমাদের সবার চোখের মনি ছিল।

তিনি বলেন, ছোট্ট রাসেল কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে।  আমাদের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গিয়েও আব্বাকে বাড়ি চলো বাড়ি চলো বলে কান্নাকাটি করত। আব্বার সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার দিনটি রাসেলের খুব কষ্টে কাটত। সারাটা দিন ওর চোখে পানি থাকত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাসেলের স্বপ্ন ছিল সে সেনাবাহিনীর অফিসার হবে। গ্রামে গেলে বাচ্চাদের সে প্যারেড করাত। রাসেলের ইচ্ছায় শিশুদের কাপড় দিতে হতো। ওর মনটা ছিল খুব উদার।

শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতেই শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ গঠন করা হয়। এ সময় কবি সুকান্তের কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন করেন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন।  এই স্কুলেই পড়াশোনা করতেন শেখ রাসেল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল।

গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, সংগঠনটির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এবং ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন। শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স প্রান্ত থেকে ৮ বছরের স্টেটিং খেলোয়াড় নীলকাব্য শহিদ বক্তব্য দেন।

উল্লে­খ্য, মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সবার সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে নিহত হন শেখ রাসেল। সুত্র: যুগান্তর অনলাইন।

এম২৪নিউজ/এসএ