ঝুলন্ত অবস্থায় নববধূর লাশ উদ্ধার, বাড়িতে তালা মেরে পালালো শ্বশুরবাড়ীর লোকজন

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের বদরগঞ্জে জাহিদা আক্তার শিলামনি (২০) নামে এক নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না পেচিয়ে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ীর লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। শুক্রবার সকালে বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শিলামনি মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের সাহাবুল ইসলাম মন্ডলের মেয়ে ও পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার শাহ্ আব্দুর রউফ সরকারি কলেজের অনার্স বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থী ছিল।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে ২ টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে সোনারপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম খোকা মেম্বারের ছেলে নাসিম সোনারের সঙ্গে শিলামনির বিয়ে হয়। বাবার বাড়ি থেকে বিয়েতে চার ভরি ওজনের স্বর্নালংকার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হতদরিদ্র বাবা অলংকার তৈরি করে দিতে দেরি করেন। এ নিয়ে প্রায় সময় শিলামনিকে গালাগালসহ মানসিকভাবে নির্যাতন চালায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন।

নিহতের পরিবারের ধারণা ওই বিরোধের জেরে শিলামনিকে হত্যার পর তার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রতিবেশিদের মধ্যে জানাজানি হলে স্বামী নাসিম সোনারসহ বাড়ির লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের চাচা আতাউর রহমান বলেন, ‘বিয়েতে চার ভরি ওজনের অলংকার দেওয়ার কথা ছিল। টাকা ম্যানেজ করে মেয়ের বাবা অলংকার তৈরি করেন। কিন্তু অলংকার দিতে দেরি হওয়ায় মেয়েকে প্রায় সময় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতো। এ ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাতিজীকে হত্যার পর লাশ ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝোলানো হয়। আশপাশের লোকজনের মুখে খবর পেয়ে আমরা ছুটে আসি। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহৃ রয়েছে বলে জানান তিনি।’

আরো পড়ুন: অযত্ন-অবহেলায় ১৬৫ বছরের পুরানো রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি

বদরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শ্বশুরবাড়ীর লোকজন ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার