মিঠাপুকুরে ৩০ বছরেও দখলমুক্ত হয়নি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি

স্টাফ রিপোর্টার, মিঠাপুকুর (রংপুর):

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জানকীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ৩০ বছর আগে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বতববাড়ি ও পুকুর খনন করেছেন। এখনও জমি দখলমুক্ত হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসি বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের জানকীপুৃর গ্রামে ১৯০০ সালে ৬১ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় জানকীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একটি খেলার মাঠ রয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনসহ এলাকার শিক্ষার্থী, কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। বিদ্যালয় মাঠের পাশে প্রভাবশালী রুহুল আমিনের বসতবাড়ি। তিনি বিদ্যালয় মাঠের অন্তত. ৫ শতক জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, পুকুর খনন ও চাউল কল নির্মাণ করেছেন। এর ফলে, বিদ্যালয়ের মাঠ সংকুচিত হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা বাধাগ্রস্থ্য হয়ে পড়েছে। মাঠের পাশে তাঁর স্থাপিত চাউলকল মারাত্মক শব্দ দুষণ হয়। চাউলকলের লোকজন বিদ্যালয়ের সামনে ভীড় করায় লেখাপড়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলে।

স্থানীয় আরিফুল, আলমগীর ও আবদুর রহিম বলেন, জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও চাউলকলের শব্দ দুষণের প্রতিবাদ করলে রুহুল আমিন ও তার পরিবারের লোকজন মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে। তাই কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।’ একই কথা বলেন আবু তাহেরসহ আরও অনেকে। তারা অবিলম্বে বিদ্যালয়ের জমি দখল মুক্ত করার দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম, স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম, আবু তাহেরসহ এলাকাবাসি ৭ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিদ্যালয়ের জমি দখলে অভিযুক্ত রুহুল আমিন বলেন, আমি ত্রিশ বছর আগে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছি। কেউ বাধা দেয়নি। এখন নতুন ম্যাপের সীমানা অনুযায়ী নাকি আমার বাড়ির কিছু অংশ বিদ্যালয়ের জমিতে পড়েছে। যদি পড়ে থাকে, তাহলে উত্তর পাশে আমার জমি রয়েছে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ে জমি দেব।’

প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা বসতবাড়িতে পড়েছে- এটা আগে জানতাম না। পরে মাপজোখ করে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুকুরটি ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠের কিছু অংশে এসেছে। উত্তরপাশে রুহুল আমিনের জমি আছে। সেই জমি থেকে জমি বদল করার কথা বলেছি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। অথচ প্রধান শিক্ষক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান নি। এটা তার দায়িত্ব ছিল।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিস থেকে সারভেয়ার সেখানে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। আরও তদন্ত চলছে। আশা করি খুব দ্রুত বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার।