মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ১৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বৃহৎ এই উপজেলার মানুষের চিকিৎসার জন্য ভরসা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বিভিন্ন স্থান থেকে হাসপাতালে আসা রোগীদের অসহনীয় দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। নেই পানি, খাওয়া যাচ্ছে না হাসপাতালের দেয়া খাবার। তিনটি ওয়ার্ডে ৩৩টি ফ্যানের মধ্যে বিকল ১২টি। এতে অবর্ণনীয় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন রোগীরা। বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে রোগীদের মুখে এমন ভোগান্তির কথা জানা গেছে।

জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা ওয়ার্ড, প্রসূতি, শিশু ওয়ার্ড ও পুরুষ ওয়ার্ডের ৩৩টি ফ্যানের মধ্যে ১২টিই বিকল। ফলে তীব্র গরমে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মাথার ওপরে ফ্যান থাকলেও রোগীরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। পুরুষ ওয়ার্ডে দেখা যায়, বিছানাগুলোতে যেসব রোগীরা আছেন তাদের অভিযোগ নিন্মমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত স্বামী সায়েদ জামানকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন মঞ্জিলা খাতুন। তিনি জনান, বুধবার রাতে তাদের দেয়া ভাত, ডাল ও মাছের তরকারি খাওয়ার উপযুক্ত ছিল না।

মারফত আলী সজীব নামে এক রোগী জানান, হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয় তা গলা দিয়ে নামে না। তাই তিনি খাবার ফিরিয়ে দেন।

উপজেলার কুঠির পাড়া গ্রামের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আছমা আক্তার জনান, হাসপাতালে তীব্র গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। পাশেই মেয়ে মিতা খাতুন হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।

বড়বালা ইউনিয়নের শারমীন আক্তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১০মাস বয়সী শিশু সীমাকে নিয়ে এক দিন আগে ভর্তি হন। তিনি গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেও কোনোভাবেই শিশুর কান্না থামাতে পারছেন না।

কর্তব্যরত নার্স জানান, গত কয়েক দিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ার ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৫ জন রোগী।

ইনজেকশন ও স্যালাইন দেয়ার জন্য নার্সদের কাছে গেলে তারা ব্যবহার খারাপ করেন বলে অভিযোগ রোগীদের।

বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড থেকে রোগীদের নার্সের কক্ষে ডেকে পাঠানো হয় ইনজেকশন দেয়ার জন্য। ওই সময় শিশু রোগীদের নিয়ে অভিভাবকেরা লাইন ধরেন নার্সের কক্ষের সামনে। অথচ ওয়ার্ডে গিয়ে সেবা দেয়ার কথা তাদের।

ওই সময় কর্তব্যরত নার্স জনান, রোগীদের সুবিধার জন্য তাদের কক্ষে আসতে বলা হয়। এ দিকে বৈদ্যুতিক লো-ভল্টেজের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোটর চালাতে না পারায় বুধবার রাত ১২টা থেকে বন্ধ রয়েছে পানি সরবরাহ।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, তিনি অল্প কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। হাসপাতালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে বৈঠক করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। বিকল ফ্যানগুলো মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নার্সদের সতর্ক করা হবে। রোগীদের খাবার উপযোগী খাদ্য সরবারাহ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হবে। এছাড়া লো-ভল্টেজের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply