মিঠাপুকুরে ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (জামায়াত সমর্থিত) মাহবুবার রহমান মাহাবকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হারুন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পায়রাবন্দ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হারুন ওই ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী হাকিম আলীর দোকানে মাছ কাটার কাজ করতেন বলে জানাগেছে। তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ্দ করেছে স্থানীয়রা।

নিহত মাহবুবার রহমান মিঠাপুকুর উপজেলার ৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রংপুর জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (ঔষধের দোকান) বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পায়রাবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান। তিনি দোকানের সামনে দাঁড়াতেই তার ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায় হারুন নামে এক ব্যক্তি। এসময় হারুন তার হাতে থাকা মাছকাটা বটি দিয়ে চেয়ারম্যানের ঘাড়ে উপর্যপুরি আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় এ্যাম্বুলেন্স যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানকে মৃত ঘোষনা করেন।

এদিকে হামলাকারীকে আটক করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পায়রাবন্দ বাজারে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান, রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) আবু হাসান মিয়া, মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান।

এসময় উত্তেজিত স্থানীয় জনতা জানায়, চেয়ারম্যান জামায়াতপন্থী হওয়ায় রাজনৈতিক কারনে ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়। হামলাকারীকে বাঁচাতে পাগল উপাধি দিচ্ছে চেয়ারম্যান বিরোধি ক্ষমতাসীনরা। যতক্ষণ হামলাকারী কিজন্য হামলা করেছে এ ব্যাপারে জানাবে না, ততক্ষণ হামলাকারীকে নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। এসময় পুলিশের সামনে বিক্ষোভ করে তারা। প্রশাসনের সাথে ঘন্টা দুয়েক পাল্টা-পাল্টি তর্কবিতর্কের পর অপরাধীকে কঠিন শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে হামলাকারীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।

চেয়ারম্যানকে বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আবু সাঈদ ও রায়হান কবির বলেন, চেয়ারম্যানকে এ্যাম্বুলেন্সযোগে পায়রাবন্দ থেকে রংপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে মর্ডান মোড়ের কাছাকাছি গেলে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করে কলেমা পড়েন। এরপর আমরা বুঝতে পারি চেয়ারম্যান আর নেই। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ সহ এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply