মিঠাপুকুরে অসামাজিক কর্মকান্ড ও হয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে অসামাজিক কার্যকলাপসহ এলাকাবাসীকে হয়রানীর অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন খোকন মন্ডল নামে এক যুবক। শনিবার স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে এক নারীর নানা হয়রানীর চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের করিম মন্ডলের ছেলে খোকন মন্ডল তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার বলদীবাতান এলাকার শিল্পী বেগম (২৫) নামের এক নারী দীর্ঘদিন হতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ এবং এলাকার নিরীহ মানুষকে মিথ্যা অভিযোগে ফাসানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করাসহ নানাভাবে হয়রানী করে চলেছেন। ইতোমধ্যে তার হয়রানীর শিকার হয়েছেন তিনি নিজেসহ জমশেদ আলী, মনোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

খোকন মন্ডল বলেন, ওই নারী একের পর এক ৪ ব্যাক্তিকে স্বামী বানিয়ে একাধারে চার স্বামীকে নিয়ে ব্যাভিচারী জীবন কাটাচ্ছেন। এছাড়াও প্রায় সময় মিথ্যা নারী কেলেংকারীর অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন। এমনই পরিস্থিতির শিকার আমি নিজেই। আমি ওই নারীর অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দেয়। আমি তার মামলায় হাজতবাস করেছি।’ তার ব্যাভিচারী অবৈধ জীবন-যাপন ও কার্যকলাপের বিষয়ে বর্তমানে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করে না। খোকন মন্ডল আরও বলেন, ওই নারীর কারনে এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এসব নিয়ে প্রতিবাদের চেষ্টা করে ইতোমধ্যে জমশেদ আলী, মনোয়ার হোসেনসহ অনেকে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করে এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবী জানান।

চিথলী পুর্বপাড়া গ্রামের আঃ রশিদের ছেলে মনোয়ার হোসেন, বলদীবাতান গ্রামের এশরাকুলের ছেলে মেহেদী, বাবলু মিয়ার ছেলে নুরনবী মিয়া, খয়ের উদ্দিনের ছেলে জমশেদ আলী ও মজিবর রহমানের ছেলে রানু মিয়া বলেন, ওই নারী অত্যন্ত বেপরোয়া, সে কোন সামাজিকতা মানে না। প্রায় সময় নতুন নতুন লোক তার কাছে স্বামী পরিচয়ে আসে। কেউ তার বেপরোয়া আচরনের প্রতিবাদ করলে তাকেও সে নারী নির্যাতনের অভিযোগ দিয়ে হয়রানী ও অর্থদন্ড করে। সে অনেকের কাছে মোটা অংকের টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত শিল্পি বেগম বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার পূর্বের স্বামী দুশ্চরিত্রের কারণে তাকে তালাক দিয়েছি। অন্যকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করছি। আমাদের সংসার ভাঙ্গার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হবেনা।

এ ব্যাপারে বড় হযরতপুর ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জানান, নারী ঘটিত ব্যাপার হওয়ায় গ্রাম্যভাবে শালিশ করার এখতিয়ার আমার নাই।

এম২৪নিউজ/আখতার