নকশাবিহীন ভবনে ঢেকে যাচ্ছে সৈয়দপুর

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

বৃটিশ আমল থেকেই শিল্পের শহর বলা হয় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরকে। এ শহরেই সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৮৭০ সালে। সেই কারখানাকে ঘিরে উত্থান ঘটে সৈয়দপুর শহরের। ধীরে ধীরে গোটা শহর ঢেকে যায় রেলওয়ের জমিতে।

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দখলবাজদের হাতে চলে গেছে রেলওয়ের অনেক জমি। নিয়ম-নীতি ও নকশার তোয়াক্কা না করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক বহুতল ভবন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের আয়তন ৮১০ একর। আর পুরোটাই রেলওয়ের সম্পত্তি। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রেল কোয়ার্টারসহ প্রায় ৫০০ একর সম্পত্তি এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। ফলে দিনদিন কমে আসছে রেলওয়ের সম্পত্তির পরিসীমা। অভিযোগ উঠেছে- দেশের সর্ববৃহৎ এ রেলওয়ে কারখানার গুটিকয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর লাগামহীন দুর্নীতির কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে, দখলবাজদের কাছ থেকে ফায়দা লুটছে কিছু রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। ফলে গুটি কয়েক ব্যক্তি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও প্রতি মুহূর্তে কোটি টাকা লোকসান গুনছে রেলওয়ে। অন্যদিকে, রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা নকশাবিহীন বহুতল ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ভবনগুলোর বাসিন্দা ও আশপাশের মানুষ।

সম্প্রতি রেলওয়ের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছেন রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুজ্জামান। তিনদিন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩১ একর ডোবা, খাল, পুকুর ও জমি উদ্ধারসহ ৩২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

আবু নাসের বাবু চৌধুরী নামে এক ঠিকাদার বলেন, একটি ভবন ভাঙার কনট্রাক্ট নিয়েছিলাম। কিন্তু ভবনটির মালিক ও কয়কজন প্রভাবশালী নেতা আমাকে কাজ করতে দেয়নি। তারা আমাকে ঘুষ নিয়ে চুপ থাকতে বলছে।

এ বিষয়ে জানতে বারবার কল দিলেও রিসিভ করেননি ভবন মালিক মো. ইমতিয়াজ প্রবাল।

সৈয়দপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বলেন, মামা-চাচার প্রভাব দেখিয়ে রেলের সম্পত্তি দখল করে ভবন নির্মাণ চলছেই। পৌরসভা থেকে ভবন নির্মাণের নকশা ও অনুমতি নেয়ার নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানে না।

পার্বতীপুর রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কানুনগো জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা তো রেলের সম্পত্তি উদ্ধার করতে চাই। কিন্তু পারি না কিছু নেতার জন্য। জমি উদ্ধারে গেলে আমাদের সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। সৈয়দপুরের অধিকাংশ ভবনই রেলওয়ের জমিতে। জমি উদ্ধারে গেলে প্রলোভন আর হুমকি দিয়ে পেছনে লোকজন লেগেই থাকে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply