নাহিদের পাশে রংপুর পুলিশ সুুপার, কাটতে হবে না হাত

শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক:

অর্থের অভাবে তিন বছরের শিশু নাহিদের চিকিৎসা করতে পারছেন না তার বাবা-মা। এক দিন, দুই দিন নয়, দেড় মাস ধরে নাহিদকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন তারা। কিন্তু নাহিদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। চিকিৎসক জানান, দ্রুত শিশুটির হাতের অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা না গেলে কবজি থেকে হাতটি কেটে ফেলতে হবে।

নাহিদের বাবা নূর ইসলাম ইতোমধ্যে বিভিন্নভাবে ঋণ করে দেড় মাসের খরচ জুগিয়েছেন। কিন্তু তার অবুঝ শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এতগুলো টাকা জোগাড় করা অসহায় পরিবারটির পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। টাকার অভাবে থমকে যায় নাহিদের চিকিৎসা। সিদ্ধান্ত হয় হাত কেটে ফেলার।

এমন দুরবস্থার কথা জানতে পেরে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর দেম। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টটি রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারের চোখে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশু নাহিদের ব্যাপারে খোঁজ নেন। উই ফর দেম সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির বাবাকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। শিশুটির বাবা নূর ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জেনে নেন আদ্যোপান্ত। সব শুনে নাহিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার।

জানা গেছে, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি গোমনাতি গ্রামে অসহায় পরিবারটি বসবাস। নাহিদের বাবা নূর ইসলামের নিজের ভিটেমাটি না থাকায় অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রামের একটি কাপড় সেলাইয়ের দোকানে দরজি হিসেবে কাজ করেন। সংসারে তার স্ত্রী ও সাড়ে চার ও তিন বছরের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল তিন বছর বয়সী শিশু নাহিদ বাড়ির পাশে খেলতে খেলতে ধানমাড়াই মেশিনে হাত ঢুকে দেয়। অসতর্কতার কারণে ডান হাতের কবজি থেকে আঙুলের মাঝের মাংসটি উঠে যায়। ছিড় ধরে তর্জনীর ভেইনে। হাতের কনুই থেকে হাড়ের বিভিন্ন অংশে ফ্রাকচার হয়। হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করানো হচ্ছে শিশুটিকে। কিন্তু পরিপূর্ণ চিকিৎসা করতে না পারলে নাহিদের হাতটি কবজি থেকে কেটে ফেলতে হবে বলে জানান সেখানকার অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রউফ।

শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, রোববার (২৩ মে) বিকেলে শিশুটির বাবা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। আমি নিজে তার কাছ থেকে সমস্যার কথা শুনেছি। টাকার অভাবে হাত কেটে ফেলতে হবে শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। অসহায় পরিবারটি পাশে আমরা থাকব। খুব দ্রুতই শিশু নাহিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

নাহিদের বাবা নূর ইসলাম বলেন, আমার তো নিজের বলতে কিছু নেই। দরজির (কাপড় সেলাই) কাজ করে কোনো রকমে বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। ধান ভাঙা মেশিনে বাচ্চাটার হাত ঢুকে অনেক হয়েছে। আমি এখন অনেক ঋণগ্রস্ত। দেড় মাস ধরে হাসপাতালে আছি। অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারি নাই। ডাক্তার বলেছেন আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে বাচ্চার হাতের অপারেশন করতে হবে। অপারেশনের জন্য কিছু সরঞ্জামাদি কিনতেই প্রায় ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন। টাকার ব্যবস্থা না হলে অপারেশন করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, আমি তো একটি টাকার জোগাড় করতে পারিনি। আমার কষ্টের কথা শুনে এসপি স্যার এগিয়ে এসেছেন। এখন আমার বাচ্চার অপারেশন হবে। ভালো চিকিৎসা হলে আর হাতে কেটে ফেলতে হবে না।

শিশুটির খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করতে পাশে থাকবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর দেম।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা জীবন ঘোষ বলেন, আমরা শিশু নাহিদের পরিবারের খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে অসহায় পরিবারটি পাশে দাঁড়িয়েছেন। শিশু নাহিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। আমাদের সংগঠনও শিশুটির সঙ্গে থাকবে। সূত্র: ঢাকাপোষ্ট

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply