স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া ভালো নির্বাচন সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে কীসের নির্বাচন। আগে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, অবশ্যই রাজনৈতিক সংস্কার করতে হবে এবং সবার অংশগ্রহণে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। দেশে এখন মব পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা সব সময় মব পলিটিকসের ঘোর বিরোধী। আমাদের চোখের সামনে, এখন দেশে এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটা কেউ কেউ পাটগ্রাম বানিয়ে ফেলছে, যার কারণে বর্তমান সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা কল্পনাও করা যায় না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কতগুলো মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে। সেই মৌলিক সংস্কারের কথা আমরা বলেছি। আমরা মৌলিক সংস্কার করে ছাড়বো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর মহানগর আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে দলের বিভাগীয় জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সব খুনির বিচার, প্রয়োজনীয় সব সংস্কারের পর নির্বাচনসহ চার দফা দাবিতে জনসভার আয়োজন করে দলটি। জনসভা থেকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ।
নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের সভামঞ্চ থেকে হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শুনতে পাচ্ছি। আমরা সবাইকে স্মরণ করে দিতে চাই। কেউ যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলের মতো স্বপ্ন দেখে থাকেন। তাহলে বলতে চাই, মহান আল্লাহর সাহায্যে আমরা সেই স্বপ্নকে দুঃস্বপ্ন করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এমন কিছু বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। দেশে কোনো মাস্তানতন্ত্র চলবে না, কালো টাকার খেলা চলবে না। প্রশাসনের ক্যু চলবে না। নির্বাচনের সময় কেউ যেন অপকর্ম করতে না পারে। এজন্য আমরা সজাগ রয়েছি। জনগণের ভোটে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনে যারাই জয়ী হবে তাদের স্বাগত জানাতে এখন থেকেই আমরা প্রস্তুত। ফ্যাসিবাদ নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদদের জীবনের বিনিময়ে আজকে বাংলাদেশের মানুষ আমরা যারা মুক্তি পেলাম, তারা কেন ধৈর্য্য ধরতে পারছি না। চতুর্দিকে পত্রিকার পাতা খুললে, স্যাটেলাইট মিডিয়ার সামনে দাঁড়ালে-বসলে আজকে বাংলাদেশের কোনো না কোনো এলাকায় আমরা বিভৎস কিছু মানুষের থাবা দেখতে পাচ্ছি। আমার মায়ের ইজ্জ্বতের ওপর এই থাবা দেখছি। মানুষের জীবনের ওপর এই থাবা দেখছি। জনগণের সম্পদের ওপর এই থাবা দেখছি। এমনকি দিশেহারা হয়ে তাদের যখন হুশ ঠিক থাকে না তখন নিজের লোককেও নিজেরা খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। কেনরে ভাই, তোমাদের এই অবস্থা?
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে যারা মায়া কান্না করেছে, তারাই সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুট করেছে। আমরা দেশের মধ্যে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানি না। এ দেশের মাটিতে যারাই জন্মগ্রহণ করবে, তারাই এদেশের সম্মানিত নাগরিক। আমরা কথা দিচ্ছি, সংবিধান অনুযায়ী আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াবো। তারা মালিক হয়েছিল জনগণের। আমরা জনগণের সেবক হব ইনশাআল্লাহ।
মব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে মব কালচার নতুন না। ৭২ সাল থেকেই দেশে মব চলছে। মায়ের স্তন কেটে উল্লাস করেছে, এমন কুলাঙ্গার বাংলাদেশে আছে। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মানুষ মারা হয়েছে। সেগুলো কি মব ছিল না, সেগুলো মব ছিল। তবে মবকে সমর্থন করার সুযোগ নেই আমাদের। কোনো নাগরিকের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। দেশের সরকার ও বিচার বিভাগ বিচার করবে, সেই আইন দেশের সংবিধানে রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির আরো বলেন, বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলি, অতীতে যারা অপরাধ করেছেন, তাদের বিষয়টা রাষ্ট্র দেখবে। এখন আপনারা যারা দায়িত্বে রয়েছেন, আপনারা দায়িত্ব পালন করুন। অন্যায়কারীর পক্ষ নিবেন না। জনগণের বিপক্ষে যাবেন না। জনগণের বিপক্ষে গেলে কী পরিণতি হয় সেটা ২০২৪ সালে দেখেছেন।
এদিকে, শুক্রবার সকালে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আবু সাঈদের রক্তের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ। তাই আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে কেউ বেইমানি করবেন না। সামা যদি কোনো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা লাভ করে বা এমন কার্যকলাপ কেউ শুরু করে তাহলে আবু সাঈদের রবে ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জনগণ আবারও ফুঁসে উঠবে।
এম২৪নিউজ/আখতার