গংগাচড়ার চাঞ্চল্যকর ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় পলাতক ধর্ষকসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুরের গংগাচড়া এলাকার ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক ধর্ষক সহ তিন জনকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকা থেকে র‌্যব-১৩ গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেফতার ধর্ষক গংগাচড়া থানার দক্ষিণ খলেয়া (কাহারটারী) গ্রামের জনৈক মোঃ মেজবাউল হক (ঘুটু) (২৮), পিতা- মোঃআজাহারুল ইসলাম।

এ ঘটনায় এজাহারনামীয় সহযোগী আসামী মোছাঃ সূর্যিনা বেগম (২২) মোঃ আজাহারুল ইসলাম (খদর) (৫০) কে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১৩ গতকাল শনিবার গ্রেপ্তার করে।

আজ শনিবার দুপুরে রংপুর র‌্যাব-১৩ কার্যলয়ে সাংবাদিকদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের অধিনায়ক রেজা আহম্মেদ ফেরদৌস জানান, শিশুটি স্কুলে যাওয়ার সময় জনৈকা মোছাঃ সূর্যিনা বেগম ভিকটিমকে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল ছুটি শেষে তার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে।

ভিকটিম মোছাঃ সূর্যিনা বেগম এর কথামত স্কুল শেষে তাদের বাড়িতে গেলে ভিকটিমকে যথারীতি আপ্যায়ন করে এবং মোবাইল ফোনে গান শোনায়, অশ্লীল ছবি দেখায় ও গল্প-গুজবের পর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমকে একা রেখে ঘরের বাহিরে যায়। তখন মোঃ মেজবাউল হক (ঘুটু)ভিকটিমকে ঘরের ভিতর বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে ভিকটিম বাড়ীতে ফেরার পর শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ভিকটিমকে তার অভিভাবক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ভিকটিমকে পরবর্তীতে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা নিজে বাদী হয়ে রংপুর জেলার গংগাচড়া মডেল থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করেছে মর্মে এজাহার দায়ের করেন।যার মামলা নং-০৬/১৩০ তারিখ-০৪/০৬/২০২২ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০০৩) এর ৯(১)/৩০। মামলার ঘটনাটি এলাকার লোকজনের মুখে মুখে প্রচার হতে থাকে এবং সংবাদ মাধ্যমসমূহে প্রচারিত হয় যা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে ।

এরই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা র‌্যাব ক্যাম্পের একটি চৌকস দল উক্ত ঘটনার বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে গতকাল ১১ জুন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার রহস্য উৎঘাটন করে ধর্ষণের সাথে জড়িত আসামী মোঃ মেজবাউল হক (ঘুটু) (২৮), পিতা-মোঃ আজাহারুল ইসলাম,গ্রাম দক্ষিণ খলেয়া (কাহারটারী), থানা- গংগাচড়া,এবং দুই জন জন ২২ ও ৫০ বছর বয়সি নারী ও পুরুষ উভয় জেলা-রংপুর কে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরো জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মেজবাউল হক (ঘুটু )(২৮) উক্ত ঘটনাটি সম্পূর্ণ বর্ণনা করে যে,গত ১ জুন ২২এজাহার নামীয় মোছাঃ সূর্যিনা বেগম ভিকটিমের বাড়ীতে বেড়াতে যায়। পরের দিন ২ জুন শিশু ভিকটিম স্কুল যাওয়ার সময় মোছাঃ সূর্যিনা বেগম এর সাথে যায়। পথিমধ্যে মোছাঃ সূর্যিনা বেগম ভিকটিমকে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এবং স্কুল শেষে তার বাড়ীতে আসতে বলে।

পরবর্তীতে ভিকটিম আসামীদের বাড়ীতে আসলে ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ মেজবাউল হক (ঘুটু) তার ঘরের ভিতর আনুমানিক দুপুর আড়াইটারদিকে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিম চিৎকার করলেও অন্য আসামীরা ভিকটিমকে কোন সহযোগীতা করেনি। পরবর্তীতে বাকী দুই আসামীর সহায়তায় মোঃ মেজবাউল হক ঘুটু ভিকটিমকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।ধর্ষকও তার সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এম২৬নিউজ/আখতার

Leave a Reply