রংপুরে পুলিশের সাথে বিএনপি’র সংঘর্ষ, ওসি ও সাংবাদিকসহ আহত অর্ধশতাধিক

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা সদরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল বের করার ঘটনাকে কেন্দ্র পুলিশের সাথে বিএনপি নেতা কর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ পুলিশের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জে ১৫ পুলিশ ৪ সাংবাদিক সহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মী সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে গুম খুন , নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভোলা ও নারায়নঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন পুলিশের গুলিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের নিহত হবার প্রতিবাদে বৃহসপতিবার বিকেলে ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান মাবুর নেতৃত্বে বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি উপজেলা সদরের পুরাতন সোনালী ব্যাংকের মোড় হয়ে বাজার অতিক্রম করে টাকোয়া মসজিদের সামনে সড়কে সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে পুলিশ সমাবেশে বাঁধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ও ধাক্বকাধাক্কি শুরু হয়। এ সময়ে বিএনপি কর্মিরা বেপরোয়া হয়ে ইট পাটকেল বৃষ্টির মত নিক্ষেপ করলে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষন করে।

এরপর বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ পিছু হতে থানায় চলে আসে। এরপর রংপুর থেকে বিপুল সংথ্যব পুলিশ এসে বেপরোয়া লাঠি চার্জ আর গুলি বর্ষন শুরু করে বলে বিএনপি উপজেলা সভাপতি মাবু অভিযোগ করেন।

সংঘর্ষে পুলিশের এস আই সালাম সহ ৫ পুলিশ স্থানীয় সাংবাদিক দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি সুজন আহাম্মেদ মানব জমিন প্রতিনিধি আব্দুল বারী স্বপন সহ ৪ সাংবাদিক ও অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা কর্মী আহত হয়।

আহতদদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান মাবু সাধারন সম্পাদক আখিরুজ্জামান শিরন ছাত্রদল রংপুর জেলা সাধারন সম্পাদক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন লিজু গুরতর আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পুলিশ ও বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে দেড় ঘন্টা ব্যাপি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলার পর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিএনপি নেতা কর্মীরা ঘটনা স্থল ত্যাগ করে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনার পর আওয়ামীলীগ উপজেলা সাধারন সম্পাদক আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জিরো পয়েন্টের কাছে সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তারা বিএনপির ধংসাত্মক রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন তারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে শান্তিপুর্ন এলাকা বলে পরিচিত গঙ্গাচড়াকে রনক্ষেত্র বানিয়েছে। এরপর তাদের যে কোন কর্মকান্ড প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষনা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাবু অভিযোগ বুধবার থানার ওসির সাথে কথা বকলা হয়েছে আমরা শান্তিপুর্ন মিছিল করবো কিন্তু সমাবেশ চলাকালে পুলিশ অর্তর্কিত ভাবে হামলা করেছে তাদের শতাধিক নেতা কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়াও যুবদল নেতা রাশেদকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল জানান বিএনপি নেতা কর্মীরা বিক্ষোভ করার নামে পুলিশের উপরে হামলা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ৫ পুলিশকে আহত করেছে। তারা দফায় দফায় পুলিশের উপর চড়াও হয়ে বৃষ্টির মত ইট- পাথর নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে ৪ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকে আটক করেছে এরা হলেন বিএনপি নেতা মাহবুব আসিফ, ছাত্রদল নেতা সিন্দিদ , অয়ন ও নয়ন। উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আমিরুজ্জামান মিলন জানান পুলিশ ৪ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। তবে এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল জানান কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বললেও তাদের নাম বলতে রাজি হননি। সন্ধায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) হোসাইন রায়হান বলেন, বর্তমানে গঙ্গাচড়ার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গঙ্গাচড়া বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গঙ্গাচড়া থানার ওসি সহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কারো মাথা ফেটে গেছে, কারও হাত-পা কেটে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা স্বাপেক্ষে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply