রংপুরে কৃষি শ্রমিক সংকট নিরসনে রাইস প্লান্টারে বোরো চারা রোপন

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুর জেলায় কৃষি শ্রমিক সংকট নিরসন ও উৎপাদন খরচ কমাতে বিকল্প উপায় হিসেবে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরের তারাগঞ্জে রাইস প্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে বোরো ধানের চারা রোপন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামে রাইস প্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপনের মাধ্যমে এ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধানের চারা রোপনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকার ৭ জন কৃষকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫ একর সমতল জমিতে বোরো ধান চাষের আয়োজন করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম, পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ওই ৭ কৃষকের মাঝে “বঙ্গবন্ধু ধান-১০০” জাতের বোরো ধানের বীজ ও সার বোরো চাষের প্রদর্শনীর জন্য বিতরণ করেছেন।

উপজেলার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে ট্রেরের মাধ্যমে বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজতলা তৈরির ১ মাসের মধ্যে ঐ বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারা রোপনের উপযোগী হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগনের উপস্থিতিতে রাইস প্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে বঙ্গবন্ধু ধান-১০০ জাতের বোরো ধানের চারা রোপনের আয়োজন করেন।

আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধু কৃষকরা জানান, এর আগে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর এলাকায় ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৭৮ জন কৃষকের সমন্বয়ে প্রায় ৫০ একর জমিতে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন করে চাষাবাদ শুরু করা হয়। এরই ফলশ্রুতিতে কৃষকরা নিজেদের বোরো চাষের কৃষি জমিতে এবছর নিজেদের উদ্যোগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের জন্য উপজেলা কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা চায়। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন।

জগদীশপুর ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী জানান, কৃষকরা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য স্বতঃস্ফুর্তভাবে যোগাযোগ করেন। তাদের এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে আন্তরিকতার সাথে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন। এভাবেই আমাদের কৃষকরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাসসুম বলেন, প্রতিবছর এই মৌসুমে ইট ভাটাগুলোর কার্যক্রম জোরেসোরে চলতে থাকায় কৃষি শ্রমিক সংকট শুরু হয়। এছাড়াও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। একারনে এই প্রযুক্তি সহজ লভ্য।

রংপুর কৃষি অধিপ্তরের উপপরিচালক মো. ওবাইদুর রহমান মন্ডল বলেন, শ্রমিক দিয়ে ১একর জমিতে বোরো ধানের চারা লাগাতে কৃষকদের মজুরি বাবদ খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। তবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপনে একই সমপরিমাণ জমিতে ব্যয় হয় মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এতে একদিকে যেমন শ্রমিক সংকট নিরসন করা সম্ভব, অপরদিকে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবে। তাই আগামী দিনে কৃষকরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে শ্রমিক সংকটের সমস্যা থেকে বের হয়ে বোরো ধান উৎপাদনে খরচ কমিয়ে এনে নিজেরা অধিক হারে লাভবান হবেন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply