প্রাইভেট পড়ানোর নামে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, শিক্ষক বরখাস্ত

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুরের পীরগঞ্জে প্রাইভেট পড়ানোর নামে একাধিক শিক্ষার্থী ছাত্রীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি (কাব্যতীর্থ)নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক অনুপ কুমার মহন্ত (৪২) কে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্টানটির ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষক পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট হাসানপাড়া (বাজারপাড়া) গ্রামের অনিল চন্দ্র মহন্তের ছেলে অনুপ কুমার মহন্ত(৪২)। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে অভিভাবকদেও মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলার বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যে উপজেলার নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই ধর্মীয় (কাব্যতীর্থ) শিক্ষক হিসেবে অনুপ কুমার মহন্ত উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ানোর নামে কৌশলে ফাঁদে ফেলে যৌন হয়রানি করেন বলে ১০/১২ জন ছাত্রীর অভিভাবক মৌখিক এবং এক ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দেয়।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গত ১২ জুলাই জরুরি সভায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সভায় ওই শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক অনুপ একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিনি আরো জানান, নাম প্রকাশ না করার অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানায়, বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ধর্মিয় শিক্ষক অনুপ একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা লিখিতভাবে স্বীকার করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে নিশ্চিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, শিক্ষক অনুপ কুমার তিন-চার মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ফাঁস হতে থাকে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক রাশেদুন্নবী তালুকদার বলেন, ওই শিক্ষককে কেন চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষকের যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় ঘটনা প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষকের চূড়ান্ত বরখাস্তের দাবিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মন্ডল বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে ওই শিক্ষকের চূড়ান্ত বরখাস্তের দাবি জানিয়ে।

পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মন্ডল বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগের অভিযুক্ত শিক্ষক অনুপ কুমার মহন্তের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply