সেতুর নাম এতিম সেতু

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

সড়ক ছাড়াই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে সোনামতি খালের উপর প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। বিস্তৃর্ণ ফসলির জমির মাঝ দিয়ে সোনামতি খাল প্রবাহিত হয়ে গেছে। আর সেখানেই এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আশপাশে বসতবাড়ি না থাকায় স্থানীয়রা এ সেতুর নাম দিয়েছেন ‘এতিম সেতু’। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে এ সেতুর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সোয়াদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী বেলাল মিয়া’। কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসি কর্তৃপক্ষকে সেতু বুঝিয়ে দিয়ে বিল উত্তোলন করেছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিকে ফসলি জমি। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। এ খালের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে উঁচু সেতুটি। নেই কোনো সংযোগ সড়ক। যাতায়াতের জন্য জমির আইল ছাড়া অন্য কিছু নেই।  

সেখানকার কৃষকরা জানান, সেতুটির উত্তরে মূল সড়ক থেকে ফসলি জমির পাশ দিয়ে সরু একটি রাস্তা থাকলেও তাতে করা হয়নি মাটি ভরাট। আর দক্ষিণ দিকে শুধু ফসলি জমি। অর্থাৎ সেতুটির দুপাশে সড়কের বদলে রয়েছে আমন ধানের জমি।

বিএডিসি কর্মকর্তারা জানান, ব্রিজের পূর্বপাশে রাস্তার অবয়ব থাকলেও পশ্চিম পাশে কোনো রাস্তা নেই। মূলত ফসল আনা-নেওয়া করার জন্য করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্পেশাল রিকোয়ারমেন্ট ও ডিও লেটারের কারণে ব্রিজটি করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিএডিসিকে জানিয়েছেন, কাবিখার বরাদ্দ এলে এ রাস্তা করা হবে। 

কৃষক তাহারুল বলেন, ব্রিজ করার পর রাস্তা না করলে আমাদের কষ্ট আরো বাড়বে। আমরা তো  আর গাড়িতে করে ধান নিতে পারব না। এখন এ ব্রিজ দিয়ে কী হবে? ব্রিজও চাই, রাস্তাও চাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোয়াদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী বেলাল মিয়াকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে ফোন কেটে দেন ।

ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, খালের উপর দিয়ে কৃষকরা ধান, পাট আনা-নেওয়া করতে কষ্ট হয়। তাই তাদের অনুরোধে এটি করা হয়েছে। ধান কাটা হয়ে গেলে রাস্তা বের করা হবে। 

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুবেল ইসলাম বলেন, আমরা এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, এখন কাবিখার প্রজেক্ট নেই তাই করা হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে রাস্তাটা তারা করে দেবেন।

তিনি আরো বলেন, এ রাস্তাটা মূলত ওই খালের দুই পারের ফসল যেন কৃষকরা আনতে পারেন সে কারণে করা হয়েছে। মানুষ চলাচল বা রিকশা ভ্যান চলাচলের জন্য জন্য। আমরা চেয়ারম্যানকে বলবো তিনি যেন দ্রুত রাস্তা করে দেন। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply