পীরগাছায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর হাত কেটে ফেলায় কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুরের পীরগাছায় ভুল চিকিৎসায় এক শিশু চয়ন কুমারের হাতে পচন ধরার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন শিশু টির বাবা শ্রী নগদ ভগত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কবিরাজের অপ- চিকিৎসার বিরুদ্ধে আইনঅনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক বলেছেন, আমরা সরকারী বিধি মোতাবেক শিশুটিকে সবধরনের সহযোগিতা করবো।

পুলিশ জানায়, উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের নগদ ভগতের ছেলে চয়ন কুমার (১২) লিচু গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় এবং তার ডান হাত ভেঙ্গে যায়। এরপর রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিলে ভাঙ্গা হাতে পচন ধরে যায়। পরে শিশুটিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, চয়ন কুমারের ডান হাতটি কেটে না ফেললে সমস্ত শরীরে ক্যান্সারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বাধ্য হয়ে শিশুটির হাতটি কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা।

শিশুটির বাবা নগদ ভগত বলেন, ‘আমি দিনমজুর, দিন আনি দিন খাই। আমরা স্বামী-স্ত্রী অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত জুটে না। আমরা উপজাতি(সাঁতাল)। আমার তিন সন্তান। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান চয়ন কুমার। চয়ন এবার ইটাকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। আমরা সেদিন বাড়িতে ছিলাম না, সবার অজান্তে চয়ন কুমর প্রতিবেশি আব্দুস সোবহানের ছেলে বাবু মিয়া আমার সন্তান চয়ন কুমারকে জোর করে লিচু গাছে উঠিয়ে দেয়। সেদিন বৃষ্টি থাকার কারণে লিচু গাছটি ছিল পিচ্ছিল। ওই সময় গাছে উঠিয়ে দিলে আমার সন্তান গাছ থেকে পড়ে যায়।গাছ থেকে পড়ে চয়ন কুমরের ডান হাতটি ভেঙ্গে যায়। পরে বাবু মিয়া তার পরিচিত স্থানীয় কবিরাজের কাছে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে হাতটিতে পচন ধরে যায়।

ইটাকুমারি এলাকার মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, এরা খুবই গরিব মানুষ এক দিন কাজ না করলে পেটে ভাত জুটে না। বাবু মিয়ার উচিত ছিল উন্নত চিকিৎসা করার মাধ্যমে শিশুটিকে সুস্থ করা। কিন্তু বাবু মিয়া তা না করে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে শিশুটির জীবন নষ্ট করে দিলো।

এ ব্যাপারে প্রতিবেশি বাবু মিয়া বলেন, ‘আমার কোনো দোষ নেই। আমি উন্নত চিকিৎসা করার জন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চয়ন কুমারের মা-বাবা আমাকে জানিয়েছে কবিরাজের মাধ্যমে তারা চিকিৎসা করবেন। প্রথম দিকে তার মা-বাবা একজন কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। আমি তাদেরকে বলেছি যদি কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করতে চান তাহলে আমার পরিচিত সাহেব বাজারে কবিরাজ আছে। আমি সেখানেই চিকিৎসা করাবো। আমি সাহেব বাজারে কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করতে দেই। কবিরাজের কাছে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার ডান হাতটিতে পচন শুরু হয়। ফলে বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তার বাবা-মা। সেখানেই চিকিৎসার একপর্যায়ে ডান হাত কেটে ফেলে।

তিনি জানান, প্রথম দিকে যদি কবিরাজের কাছে না গিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতো তাহলে তার ডান হাতটি কাটা লাগতো না।বাবু মিয়া স্থানীয়ভাবে সবার সাথে পরামর্শ করে চয়ন কুমারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন।

চয়ন কুমারের বাবা নগদ ভগত ছেলেটির জন্য সমাজের বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। যদি কেউ সহযোগিতা করেন তাহলে তিনি অনেক উপকৃত হবেন। চয়ন কুমারের চিকিৎসার জন্য কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৪০১-৫০৯৭৭৮ (বিকাশ) এই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করতে পারেন। অথবা ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক নগদ (ভগত) ৭০১৭৩১৮৩০৭২৪৯ সহযোগিতা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন চয়ন কুমারের বাবা।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply