শান মেশিনে চলে ইছাহাকের জীবন

শেয়ার করুন

ফজলুর রহমান, পীরগাছা (রংপুর) ।।

পুরোনো কাঁচি, বটি, চাকু কিংবা দাও ধার করে ব্যবহার উপযোগী করাই তার কাজ। স্থানীয় ভাষায় ধার কাজে ব্যবহার করা এই মেশিনের নাম শান মেশিন। গ্রাম কিংবা হাট বাজারে শান মেশিন দিয়ে ২০ বছর ধরে জীবিকা চালিয়ে আসছেন ৫০ বছর বয়সী ইছাহাক আলী। 

ইছাহাক আলী রংপুরের পীরগাছা উপজেলা কান্দি ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের ফাজিলা শেখ ছেলে। সংসারে তিন ভাই তিন বোন, সবার ছোটো। ভাই-বোন বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করলেও এখনো অবিবাহিত তিনি। তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৪ শতাংশ জমিতে একটি ঘরে তিনি রাতযাপন করেন। 

উপজেলার তাম্বুলপুর ভোলানাথ বাজারের সাপ্তাহিক হাটের দিন (২৭ ডিসেম্বর) রোববার কথা হয় তার সাথে। এসময় তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়িতে বসেই অক্ষর জ্ঞান নিতে হয়েছে। বাল্যকাল থেকেই জীবিকার তাগিদে অন্যের ক্ষেতে কামলা খেটে সংসারে আয় উপার্জন করতে হয়েছে। 

ইছাহাক আলীর বয়স যখন ৩০ বছর তখন থেকেই ভগ্নিপতির দেয়া একটি শান মেশিন দিয়ে শুরু করেন হাট বাজারে গিয়ে মরচে ধরা পুরোনো কাঁচি, বটি, দাও ও চাকুতে ধার ওঠানোর কাজ। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এক মেশিনেই চলছে তার এ কাজ। একাজে প্রতিদিন তার গড়ে ২৫০/৩০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই চলছে তার নিজের ভরন পোষণ। এখন তাকে এই বয়সে জীবিকার তাগিদে শান দেওয়ার কাজ করতে হচ্ছে।

শান মেশিনটির চাকার প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘোরাতে হয়। এতে মেশিনের ওপরে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরতে থাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্ণিশে লোহার চাকু, বটি, দাও ও কাচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে যায়। এসময় ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি বের হয়। এ আগুনের ফুলকি ছিটকে আসে যা শরীর ও চোখের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া দুই পায়ে অনর্গল প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের। বার্ধক্যের শরীরে না কুলালেও জীবিকার তাগিদেই তাকে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে।

ইছাহাক আলী আরো বলেন, এ কাম করতে আর মন চাহে না। শান মেশিনটির চাকার প্যাডেল পা দিয়ে ঘুরাতে কষ্ট লাগে। তয় কি করমু, শান দেওয়ার কাম কইরা বাঁচতে চাই। অন্য কোন ব্যবসায় যাওয়ার মত কোন টাহা-পয়সা নাই। তয় টাহা-পয়সা পাইলে এই কষ্টের কাম করতাম না। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার