কাঁচা রাস্তাজুড়ে জলাবদ্ধতা ‘কাদার স্তূপ’ ঘটছে দুর্ঘটনা, দুর্ভোগে গ্রামবাসী

অনলাইন ডেস্ক:

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মহিরের পাড় থেকে সাতঘরিয়া পাড়া হয়ে ময়নাকুড়ি রোড পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা সড়ক, খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু রাস্তাটির এ দুরবস্থা যান চলাচলকে প্রায় অচল করে তুলেছে। ভ্যান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা কোনোভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান সাদ্দাম জানান, শুকনো মৌসুমেও রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকে। যানবাহনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটিই বাড়ছে।

সরজমিনে গোপালপুর ইউনিয়ন কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় কাঁচা রাস্তাজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ। কোন গাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। হেঁটে গেলে হাটু পর্যন্ত কাঁদা। এলাকাবাসীরা দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

মধুপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া থেকে ধর্মপুর হয়ে ডারারহাট প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। ওই রাস্তা দিয়ে পাঁচ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। বর্ষার সময় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছেন গ্রামবাসীরা। রাস্তাটি পাকা করনের দাবি জানান গ্রামবাসীরা। এলাকার কৃষকরা বলছেন, ফসল নিয়ে বাজারে যেতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। ধান, চাল বা সবজি বিক্রি করেও লাভ থাকে না।

মধুপুর ইউনিয়নের আউলিয়াগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কুতুবপুর ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া হয়ে বাঘমারার হাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। অল্প বৃষ্টি হলেই কাদায় পরিপূর্ণ হয় রাস্তাটি। এতে করে মধুপুর আউলিয়াগঞ্জ থেকে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ যেতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘন্টা।

স্থানীয় দিনমজুর মনজুরুল ইসলাম জানান, আউলিয়া গঞ্জ স্কুল থেকে একটাই রাস্তা। বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে কুতুবপুর পরিষদ যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। বিকল্প পথ দিয়ে যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অনেক রাজনীতিবিরা আশ্বাস দিয়ে আসছেন কিন্তু কাজ হয় না। আমাদের সারা বছরই ভাঙ্গা ও কাদা রাস্তা দিয়ে যেতে হয়।

শ্যামপুর রোডের পাশের বালাপাড়া বাজারের ইজিবাইক চালক নায়েব আলী বলেন, খানাখন্দ আর কাদার কারণে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে বাড়ি ফিরতে হয়। গাড়ির কন্ট্রোল বক্স ও মোটর বারবার নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় দোকানদার বলেন, রাস্তাগুলোতে কাঁদা হয় গ্রামের কিশোরদের কাছ থেকে মাল আনতে অতিরিক্ত ভাড়া লাগছে, এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

অটোভ্যান চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি ভালো থাকলে এক হাট থেকে আরেক হাটে যেতে সহজ হতো। এখন সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে। যাত্রীও কমে গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কাজ হচ্ছে না। তারা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করাসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ দিকে কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম স্কুলপাড়া জামে মসজিদ থেকে আফজালের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাদা রাস্তা ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজার লোক যাতায়াত করেন। কাদা হয় প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে আসতে হয়। রাস্তাটি পাকা করনের দাবি জানান গ্রামবাসী।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমজাদ আলী বলেন, ওই রাস্তাটির জন্য পরিষদে বেশ কয়েকবার কথা বলছি। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতিনিয়ত গ্রামবাসী আমার কাছে আসছে রাস্তা দিয়ে সংস্কারের জন্য

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুন আর রশিদ বলেন, আমি তো নতুন যোগদান করেছি রাস্তাগুলো দেখে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply