অনলাইন ডেস্ক:
রংপুরের বদরগঞ্জের হাসিনা নগর এলাকায় ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারি নামে চলছে জুয়া। এতে নি:স্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই লটারি বন্ধের দাবিতে ৭ঘন্টা পৌর শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বদরগঞ্জ সচেতন নাগরিক ও ছাত্র সমাজের ব্যানারে ওই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে তৌহিদী জনতা অংশ নেয়।বদরগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র শহীদ মিনা এলাকা। এই এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করে দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এতে করে রংপুর-পার্বতীপুর সড়কের সকল ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দাবি না মানায় আন্দোলনকারীরা সড়কেই চট বিছিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করেন। এতে করে সড়কে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারিরা।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া মাওলানা রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনী, পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে তারা আগামী বুধবারের মধ্যে লটারি বন্ধ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের আশ্বাসে বিকেল ৫টায় আমরা আপাতত সড়ক থেকে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নিয়েছি।’
জানা গেছে, উপজেলার হাসিনা নগর এলাকায় খোলাহাটি শহীদ মাহবুব সেনা নিবাসের জমিতে ক্ষুদ্র কুটি শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয় গত ১৮ আগস্ট। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় মেলার ইজারা নেন বদরগঞ্জের বেলাল মিয়া। মেলা চলবে ৪৫ দিন।
সড়কে নামাজ আদায়কারী ইমাম হাফেজ মাওলানা শফিকুর রহমান সাইফী এ প্রতিবেককে বলেন, ‘ওই কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারি নামে জুয়া যতক্ষণ, যতদিন বন্ধ করা হবে না, ততক্ষণ ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। লটারি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
সামাজিক সংগঠক মোর্শেদুল হক মোর্শেদ বলেন, সেনাবাহিনীর জমিতে লটারি নামে জুয়া কী ভাবে চলে? এই জুয়া বন্ধ করতে সেনা বাহিনী ও প্রশাসন কেন ব্যর্থ হচ্ছেন?
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেকেই বাড়ির ভ্যান বিক্রি করে, কেউবা বাড়ির অন্যান্য আসবাবপত্র বিক্রি করে লটারি টিকিট কেটে নিঃস্ব হচ্ছেন। আমার এলাকায় স্ত্রীকে খোরাক দিতে না পারায় একজনের সংসারও ভাঙেছে। আমরা আর চাই না কারো সংসার ভাঙ্গুক, কিংবা কেউ অনাহারে থাকুক। আমাদের দাবি, দ্রুত লটারি বন্ধ করা হোক।
মাওলানা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘মেলার নামে জুয়া চলায় অনেকই নিঃস্ব হচ্ছেন। এলাকায় চুরি ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। যতক্ষণ লটারির নামে জুয়া বন্ধ করা হবে না ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।’
ওই মেলার ইজারাদার বেলাল মিয়া বলেন, ‘১৫দিন আগে খোলাহাটি শহীদ মাহাবুব সেনা নিবাস থেকে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় মেলা ইজারা নিয়েছি। চলবে ৪৫ দিন।’
তিনি বলেন, ‘লটারি চালানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে। না বুঝে কিছু লোকজন আন্দোলন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওই মেলা ও লটারি চলছে সেনাবাহিনীর জায়গায়। সেটা বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল সেনাবাহিনীর। আমরা মেলার বাহিরে লটারির টিকিট বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলাম।’
তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনের বিষয়ে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, সেখানকার লটারি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’ তথ্যসূত্র: বায়ান্নর আলো
এম২৪নিউজ/আখতার