মহান মুক্তিযুদ্ধ, একজন বাটুল ও রণাঙ্গন থেকে দাবানল

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

মহান মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রকাশের জন্য প্রকাশিত সাপ্তাহিক রণাঙ্গনের পথধরে আজকের দৈনিক দাবানল। যে কারণে রংপুরের মুক্তিযুদ্ধ, দাবানল ও খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলকে এক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হয়।

আর দশটি পত্রিকা সঙ্গে মেলানো যায় না রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানলকে। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে গোপন স্থান থেকে হতো ছাপানো আর বন্দুকের নল এড়াতে সংগোপনে হতো বিতরণ।  সম্ভবত আর কোনো পত্রিকার জন্ম এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হয় নি।

১৯৬৫/৬৬ সালে রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস তখন। ছাত্র অবস্থাতেই জড়িয়ে পড়েন শ্রমিক আন্দোলনে। প্রতিষ্ঠা করেন রংপুর-দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। বিএ পাশের পর উচ্চ শিক্ষায় ব্রতী না হয়ে শ্রমিক সংগঠন সম্প্রসারণে উদ্যোগি হন ক্ষণজন্মা বাটুল। সত্তরের উত্তাল দিনগুলোতে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন, যার ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পুর্বেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। যুগপথ শ্রমিক মুভমেন্টের কারনে ১৯৭০ সালে মার্শাল ‘ল’ এর সময় ৬ মাসের জেল দেওয়া হয় তাকে। সে সময় রংপুর জেলা সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ রংপুরে অবাঙালিদের গুলিতে কিশোর শংকু সমঝদার ও জেলা জজ আদালতের কর্মচারী ওমর আলী শহীদ হন। বাটুল ছিলেন সেই মিছিলের অন্যতম সিপাহসালার।

খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলের ভাষায় ‘রংপুরে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে আলমনগর এলাকায় অরাঙালি নেতা আলম এর বাসভবনে অরাঙালিদের একটি মহাসমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে পাকিস্তান ও রংপুর, সৈয়দপুর, লালমনিরহাট, পার্বতীপুর, ঈশ্বরদি, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অরাঙালি নেতারা জড়ো হয়। সিদ্ধান্ত নেয় রংপুর-দিনাজপুরসহ আরো কিছু সংখ্যক এলাকা নিয়ে বিহারীস্থান প্রতিষ্ঠা করবে। এরপরই শুরু হয় রংপুর অঞ্চলে রাঙালি-অরাঙালিদের মধ্যে বিরোধ। এরই ধারাবাহিকতায় ৩রা মার্চ আওয়ামী লীগের ডাকে যখন সারাদেশে সাধারণ হরতাল পালিত হচ্ছিল। সে সময় আওয়ামীলীগের মিছিল থেকে আলমনগরের সরফরাজ খানের বাড়ীর বৈঠকখানায় ঢুকে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের ছবি ভাংচুর করার সময় সরফরাজ খানের গুলিতে কিশোর শংকু সমঝদার গুলিবিদ্ধ হয়।

স্মৃতিচারণে প্রয়াত খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল বলেছিলেন, ওই ঘটনায় সারা শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে আসে। আমি কিছু সংখ্যক বিক্ষুদ্ধ ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে কৈলাশ রঞ্জন স্কুলের মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগুতে থাকি।

শুরুতেই মিছিলে অংশ গ্রহণকারীদের সংখ্যা কম হলেও কিছুক্ষনের মধ্যে মিছিলটি বিশাল আকার ধারণ করে। কিছুদুর অগ্রসর হবার পর মালদহ মিষ্টিমূখ অতিক্রম করে একটু সামনে এগুলেই মিছিলটি সহিংস রূপ নেয়। মিছিলের আশপাশের অরাঙালিদের দোকানপাটে হামলা শুরু হয়। প্রথমেই বিদেশী হোটেল খ্যাত হোটেলটি ভাংচুর করা হয়। এরপর আক্রমণ হয় পায়রা চত্বরের সামনে একটি কাবুলীওয়ালার পুরাতন কম্বল আর কাপড়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে পাশের ছাপাখানায় আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সবকিছু। এরপর জাহাজ কোম্পানীর মালিকের মালিকানাধীন কে-টু সিগারেট এর ফ্যাক্টরিতে আগুন দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে মিছিলটি সামনের দিকে এগুতে থাকে। শেষে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে এসে মিছিলটি থমকে দাড়ায়।

দেওয়ান বাড়ি রোডে জেলা জজ আদালতের কর্মচারী ওমর আলী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ খবরে সারা শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রংপুর ক্যান্টমেন্ট থেকে সেনাবাহীনির একটি দল বের হয়। শহরে কারফিউ জারি করে এবং জনগনকে শহর ছেড়ে যেতে বলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শহর জনশূন্য হয়ে যায়। ’

পরের দিন ৪ মার্চ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাঙালি বিহারীদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ৩ মার্চ এর ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করা হয়। বৈঠক শেষে রাঙালি বিহারীদের একটি যৌথ মিছিল বের করে। ‘রাঙালি-বিহারী ভাই ভাই, একসাথে বাস করতে চাই’ শ্লোগান দিয়ে মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে।

১৯৭১ সালের ১২ মার্চ মজদুর ফেডারেশনের ব্যানারে এবং ডা. সোবহানের সভাপতিত্বে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী ময়দানে শ্রমিক জনসভায় আনুষ্ঠনিকভাবে পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে সেখানে মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেন বাটুল।

এরই মধ্যে সারাদেশে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন মূখর হয়ে উঠে মানুষ। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকায় খাদ্যশস্য মজুদের পরিকল্পনা নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে খাদ্যশস্য নিয়ে ঢাকায় মজুদ করতে থাকে। এই অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিহত করার ডাক দেন তৎকালীন রংপুর দিনজাপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল। ২৩ মার্চ স্থানীয় তেঁতুলতলায় (বর্তমানে শাপলা চত্বর) এক শ্রমিক সভায় শ্রমিকদের খাদ্যশস্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন বাটুল। ফলে পরদিন থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে শাসকগোষ্ঠী বাটুলের ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন।

এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার কথা চিন্তা করে ২৬ মার্চ রাতে গঙ্গাচড়ার মহিপুর হয়ে তিস্তা পাড়ি দিয়ে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে যান। পরে সেখান থেকে ২৭ মার্চ ভারতের কুচবিহারের দিনহাটার সিতাই বন্দরে চলে যান ।

 ওই এলাকার ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা কমল গুহ বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক নেতা অলি আহাদের শিক্ষা জীবনে সহপাঠি ছিলেন। বাটুল কমল গুহের সাথে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা কামনা করেন। বাটুলের ভাষায় ‘কমল গুহ তাকে জানালেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে; তাই মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করতে হবে। তার কথা মত শিতাই বন্দরে ফিরে এসে উৎসাহী যুবক টিপু, জোসনা, পিন্টুসহ ১০ থেকে ১২ জন যুবক যুবতীকে কমল গুহের নিকট প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান। তিনি বেসরকারীভাবে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ব্যাপকভাবে লোকজন ভারতে যেতে থাকে। তাদের মধ্য থেকে আরো কিছু লোককে সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান।

১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠনের পর তারা ভারতে চলে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই তারা মুক্তিযুদ্ধের সকল দায়দায়িত্ব গ্রহণ করে। ফলে তারা বেকার হয়ে পড়েন। এসময় কমল গুহ মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য বাটুলকে পত্রিকা প্রকাশের পরামর্শ দেন।

তার পরামর্শ ও সাহসে মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাটুল ‘মুস্তফা করিম’ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক ‘রণাঙ্গন’ পত্রিকার প্রকাশনা শুরু করেন। হয়ে উঠলেন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক, প্রকাশক ও সম্পাদক । বাটুল ও তার ১০/১২ জন সহযোগী উদ্যোগি ভারত সরকার থেকে পাওয়া রিলিফের অর্ধেক বিক্রি করা অর্থ দিয়ে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন।

সেই সময় সাপ্তাহিক রণাঙ্গন এ ‘ডিসেম্বরে বাংলা মুক্ত’ শীর্ষক খবর প্রকাশ করে হলুস্থল তুলে দেন পুরো উপমহাদেশে। ওই খবর নিয়ে শুরু হয় হৈহৈ রৈরৈ। শুরু হয় নানান আলোচনা, সমালোচনা। সরকার এবং নানা ব্যক্তির নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হয় হন বাটুল ও সাপ্তাহিক রণাঙ্গন। কিন্তু ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে ‘বাটুল ও রণাঙ্গন’ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। ‘সাপ্তাহিক রণাঙ্গণ’ এর ওই সংখ্যাটি এখনও জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

যুদ্ধের দিনগুলোতে গোপনে পত্রিকা বিতরণ করতেন জীবনের ঝঁকি নিয়ে। নানা চড়াই উৎরাই এর মধ্যদিয়ে এ পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যহত রাখতে সক্ষম হন। এভাবে কয়েক মাস চলার পর আমরা ৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে দেখা করে ঐতিহাসিক এক দূলর্ভ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন গোলাম মোস্তফা বাটুল। অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ রণাঙ্গনের দুঃখ দূদর্শার কথা শুনে নগদ দুই হাজার টাকা প্রদান করে। ওই সাক্ষাতকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, ‘আমরা কতদিন পর বাংলাদেশে ফিরে যাব ? তার জবাব ছিল, ‘যুদ্ধ হচ্ছে; কতদিনে দেশ স্বাধীন হবে বলা মুশকিল। ভিয়েতনাম কম্বোডিয়ায় দীর্ঘদিন থেকে যুদ্ধ চলছে এখনো তারা স্বাধীনতা পায়নি। আমাদের যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৬ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। আমাদেরও স্বাধীনতা পেতে সময় লাগবে। সম্পুরক প্রশ্ন ছিল, ‘আমাদের নিকট তথ্য আছে আপনাদের সাথে পাকিস্তান সরকারের একটি আপোষ আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই সমাধান হতে পারে। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন- ‘আই হ্যাভ নো কমেন্ট’। বাটুল তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন এরপর আমরা ফিরে এসে নিশ্চিত হই খুব শিগগিরই আমরা দেশে ফিরে যেতে পারব। যার ফলশ্রুতিতে আমরা ‘ডিসেম্বরে বাঙলা মুক্ত’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করি। ফলে আমাদেরকে নানাভাবে বিভিন্ন মহল থেকে নিগৃহীত হতে হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, আমরা বীরোচিত সংবর্ধনা পাই।

দেশ স্বাধীনের পর তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরেন। শুরু হয় রণাঙ্গনের সাহসী পথচলা। পরে রণাঙ্গন বাজেয়াপ্ত করে সরকার। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে আপিল করে ছাপাখানাটি ফেরত পেলেও রণাঙ্গণের ডিক্লারেশন ফেরত পাননি । এরপর প্রতিষ্ঠা করেন ‘সাপ্তাহিক মহাকাল’। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশনা অব্যাহত থাকে ‘সাপ্তাহিক মহাকাল’ এর। এরপর ১৯৮১ সালের ২৭শে মে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাংবাদিকতার ঐতিহ্যের মনুমেন্ট ‘দৈনিক দাবানল’। বাটুল প্রতিষ্ঠিত এই তিনটি পত্রিকার কাজ করেছেন দেশে বিদেশের প্রথিতষশা সব সাংবাদিক। চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন, আমেরিকা থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সাংবাদিক আব্দুল মালেক, দৈনিক প্রথম আলোর সহ-সম্পাদক আনিসুল হক, দৈনিক জনকণ্ঠের খ্যাতিমান সাংবাদিক আমান উদ দৌলা, অপরাধ জগতের সফিক রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আনিস রহমান, তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) এর সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী সবুজ, দৈনিক বিজলীর সম্পাদক মোজাফফর হোসেন, দৈনিক মায়াবাজার সম্পাদক মোনাব্বর হোসেন মনাসহ অনেকেই।

এছাড়াও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিদম্যান পত্রিকাগুলোও তারই হাতে গড়া সাংবদিকদের হাত দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়ে আসছে। গত পাঁচ দশক থেকে রংপুর স্টেশন রোডের দাবানল অফিস এখনো প্রাণবন্ত। নানা শ্রেণী পেশার মানুষে টইটম্বুর থাকে দৈনিক দাবানল অফিস।

খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল একজন ভিন্নধারার মানুষ ছিলেন। মিঠাপুকুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। তার হাতে গড়া সংগঠন মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এখন উত্তরাঞ্চলে সব থেকে প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী সংগঠন। প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রংপুর খেলাঘর, শিখা সংসদসহ অসংখ্য সংগঠন। সাংবাদিকতায় অনবদ্য অবদান রাখার জন্য রংপুর পৌরসভার সিটিজেন এ্যাওয়ার্ড, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের ‘মোনাজাত উদ্দিন সাংবাদিকতা স্মৃতিপদক’সহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন। তার বড় পুত্র খন্দকার মোস্তফা মোর্শেদ ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক দাবানল এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ছোট ছেলে খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু ভারতের মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছেন। একমাত্র কণ্যা প্রয়াত সোনিয়া মোস্তফা ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন।

জীবন চলার পথের নানা টানাপোড়েন, রাজনীতি আর দৈনিক দাবানল পরিচালনা করতে গিয়ে দমদমায় তেলের পাম্প, ঠিকাদার পাড়ায় হোটেল সম্রাট বিক্রি করে দেন। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যদিয়েও পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যহত রেখে গত ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান! পরবর্তিতে তার সুযোগ্য সহধর্মীনি সাঈদা পারভীন ও  তার হাতে গড়া ছোট সন্তান খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনুর সম্পাদনায় পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যহত রয়েছে। দৈনিক দাবানল ২০২২ সালের ২৭ মে ৫১ বছর অতিক্রম করেছে। প্রতিষ্ঠার একান্ন বর্ষপূতি উপলক্ষে ২০ জুন বের হয়েছে বিশেষ সংখ্যা। সঙ্গে থাকছে গুণীজন সংবর্ধনাসহ নানা আয়োজন।

তার প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করে আসছেন তাদের অনেকেই হয়তো কাংখিত বেতন ভাতা পাননি। তবুও তারা একজন বাটুল এবং সাংবাদিকতার প্রতিবিম্বকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন, এখনো অনেকে আছেন পরম ভালবাসায়। তিনি নেই কিন্তু এখনও তার দাবানল আলো ছড়াচ্ছে স্ব-মহিমায়। এর সব কৃতিত্বই খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলের। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া এই গুনি সাংবাদিক ও সংগঠক মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও ১২ ঘন্টা কাটান তার প্রতিষ্ঠিত দাবানলে। কারণে অকারণে ডাকেন সহকর্মীদের। মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন চির তরুণ। দাঁতবিহীন মুখে পান চিবাতে চিবাতে পরামর্শ দিতেন, পরামর্শ নিতেন। হাসতেন ফোকলা দাঁতে। সফেদ সাদা পাঞ্জাবীর আবরণে চলতেন পথ। মনে হয়, ছুটছেন কোন অনুসন্ধাণী রিপোর্টের সন্ধানে। তার উদ্যেম সবাইকে অনুপ্রাণিত করতো। সামনে এগুবার পথ দেখাতো। সাংবাদিকতার মাধ্যমে ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। একটি পত্রিকাকে ৫০ বছর ধরে প্রকাশনায় রাখা যে কতটা সাধনা, ত্যাগ আর কর্মের ফসল। সেটির বাস্তব উদাহরণ দৈনিক দাবানল। আর সেটি যিনি করেন তিনি যে কতটা সাধক, ত্যাগী আর কর্মঠ সেটিও প্রমানিত। তিনি হলেন খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল। তিনি একজন সাধক সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সাধক প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হলেন সাংবাদিকদের প্রতিবিম্ব। তার প্রয়াণ পরবর্তী শুন্যতায় দাবানল আজ বায়ান্ন বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠান উদযাপন করছে। তিনি শরীরে উপস্থিত না থাকলে আছেন হদয়ে, আছেন শত শত অনুজদের চোখে। বার্তা২৪

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply