রংপুরে গত এক বছরে অগ্নিকান্ডে ২৪১ জনের প্রান হারিয়েছে

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুর জেলায় গত এক বছরে জেলায় ছোট-বড় ৪ হাজারের বেশি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ অগ্নি কান্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪১ জন মানুষ। মঙ্গলবার ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন এ তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালসহ প্রায় ৮০ ভাগ ভবনে এখনো গড়ে ওঠেনি অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। সরকারি বিধিনিষেধ ও বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ ও অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মে আসছে না ভবন মালিকরা। দিন দিন বাড়ছে অগ্নি ঝুঁকি। নগরীর বহুতল আবাসিক ভবনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, বিপণী বিতান, কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নেই। নগরীর ৮০ ভাগ ভবনই অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে। কোনোভবনেই বিধিসম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। আমরা এসব ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছি। দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস যে কাউকে সহযোগিতা করে। এটাই আমাদের কাজ। তবে বহুতল ভবন নির্মাণে অবশ্যই অগ্নি নির্বাপন সুবিধাসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে, এটি ভবন মালিকের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, গত দুই-তিন বছরের তুলনায় সেই পরিসংখ্যান কিছুটা কমে এসেছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। আমরা সবসময় জনগণকে আইন মেনে চলার ব্যাপারে সচেতনতার সাথে উৎসাহিত করছি। আগের চেয়ে এখন ঝুঁকি কমে আসায় অগ্নি দুর্ঘটনাও কমছে। যারা আইন অমান্য করে অগ্নি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রংপুরের ফায়ার সার্ভিসের তথ্য মতে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কছিরউদ্দিন হাসপাতাল, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রংপুর নগরীর বেশিরভাগ হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অনুন্নত। হাসপাতালগুলোর মতো নগরীর বেশির ভাগ বিপণি বিতানও অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে।

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কমিউনিটি সুপার মার্কেট, জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টাওয়ার, শাহ আমানত টাওয়ার, মিনি সুপার মার্কেট, সিটি বাজার, নবাবগঞ্জ বাজারসহ ছোট বড় বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। এসব মার্কেট, বিপণী বিতান ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটলে হতে পারে প্রাণহানি। নিয়ম অমান্যকারীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ শুরু করছে ফায়ার সার্ভিস। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবন ও প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে নো অবজেক্টশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়া হয়। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখাসহ অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়ন না করলে অভিযান পরিচালনা করে ভবন মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে।

জসিম উদ্দিন বলেন, রংপুর জেলায় গত এক বছরে অগ্নি দুর্ঘটনা সম্পর্কিত ৪ হাজারের বেশি ফোন কল রিসিভ করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার দুর্ঘটনায় উপস্থিত থেকে আমাদের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। অগ্নি দুর্ঘটনায় জেলায় এক বছরে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত প্রায় এক হাজার ৫০০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) এ এফ এম আনজুমান কালাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নুরেআলম মিনা, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।

সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন। আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী দিনের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply