রংপুরে নিয়ন্ত্রণহীন সবজি বাজার, দফায় দফায় বাড়ছে শাকসবজির দাম

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):

রংপুর জেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় শাকসবজির বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তদারকি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় কয়েক দফায় বেড়েছে কাঁচা শাকসবজির বাজার দর। এক মাসের ব্যবধানে আলু, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। যে আলুর দাম ছিল ২৫ থেকে ২৮ টাকা কেজি, এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। আলুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে,করলা,লাউ, কাঁচা মরিচ বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর সিটি বাজার, শাপলা চত্বর খান বহুমুখী কাঁচা বাজার, কামাল কাছনা বাজারসহ রংপুরের আট উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমনটা জানা গেছে। ১০ দিন আগেও রংপুরের সবজি বাজারে বেগুন ছিল ৪০-৫০ টাকা এখন ৬৫-৮০ টাকা। যে আলু ছিল ২০-৩০ টাকা, এখন দাম বেড়ে ঠেকেছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। আলু বেগুণের সাথে দাম বেড়েছে তরিতরকারির অন্যতম উপাদেয় কাঁচা মরিচেরও। আগে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, এখন ২৬০ টাকা। এখন সব সবজিরই চড়া দাম।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজির বাজারের পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। নিত্য খাদ্যপণ্যের এমন দাম বাড়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সরকারি কোনো মনিটরিং না থাকায় এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবজিতে দাম বেড়েছে ১০-২৫ টাকা। আবার কোথাও কোথাও দিনের বেলা একরকম দামে বিক্রি হলেও রাতে তা আরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়ার ব্যাপার কারণ হিসেবে সরবরাহ সংকটকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা।

কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দফা বন্যা আর অতি বৃষ্টিও প্রভাব ফেলেছে সবজির দামে। পাশাপাশি কাঁচা শাকসবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া মনে হচ্ছে। রংপুর নগরীর সিটি বাজার জেলার সবচেয়ে বড় এই পাইকারি ও খুচরা বাজারে শাকসবজি সরবরাহ কমেছে। যেকোনো সময়ের তুলনায় এখানে সবজির সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩৫ থেকে৪০ শতাংশ। তাদের দাবি, আগের চেয়ে বাজারে কাঁচা শাকসবজির সরবরাহ কিছুটা কম হচ্ছে। যার প্রভাবে ব্যবসায়ীদেরও বেশি দামে কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সঙ্গে কয়েক দফার অতি বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতেও দুষছেন ব্যবসায়ী মহল। প্রতি বছর আগাম শীতকালীন শাকসবজিতে মাঠ ভরা থাকলেও এবার দ্রুত পচনশীল সবজিসহ বেশিরভাগ ফসল বন্যায় নষ্ট হওয়ার কারণে আলুর ওপর চাপ পড়েছে এজন্য দামটা একটু বেশি বলছেন ব্যবসায়ীরা।

রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর খাঁন বহুমুখী কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনাম মিয়া ও সাকের হোসেন বলেন, সব সবজিরই দাম বেড়েছে। গ্রাম থেকে এখন কাঁচা বাজারে সবজি সরবরাহ কমেছে। যার কারণে দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সব সবজিতেই কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় আমাদেরকেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।বাজারে একমাস আগে আলু ছিল ৪০ টাকা আর বেগুন কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৬০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে আলু ৫০ থেকে ৫৫ এবং বেগুন ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়। এছাড়াও কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, লালশাক, শসা, ধনেপাতা, করলা ও লাউয়ের দামও বাড়তি।

তারা আরও জানান, মাছ ও মাংসের যেমন দাম সবজির দামও একই। আমাদের নাগালের বাইরে সব ধরণের সবজির দাম। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়লেও প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। বাজার মনিটরিং কর্তৃপক্ষ নীরব। কোথাও কোথাও কাঁচা সবজিও এখন একদরে বিক্রি হচ্ছে।

আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিলেও রংপুরে বুধবার দুপুরে বেশির ভাগ বাজারে ৪০ টাকার ঊর্ধ্বে আলু বিক্রি করতে দেখা গেছে। নগরীর কামাল কাছনা বাজারে কথা হয় সাজ্জাদ হোসেনের সাথে।

তিনি বলেন, ভাতের পর আলুর উপর নির্ভর করে নিম্ন আয়ের মানুষ। সেই আলুর দাম এখন ৫০ টাকা। প্রতিপদের আলুতে বেড়েছে কমপক্ষে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। অথচ গ্রামেগঞ্জে কৃষকের কাছে আলু নেই। আলু এখন মজুতদার এবং কোল্ডস্টোরের মালিকদের হাতে। তারাই কারসাজি করে আলুর বাজার গরম করে দিয়েছি।

রংপুর কৃষিবিপণণ অধিদপ্তর বলছে, খুব শিগগিরই এ অবস্থার উন্নতি হবে।অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

রংপুর কৃষিবিপণন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক সাংবাদিকদের বলেন, যদি যোগানের সমন্বয় না থাকে তাহলেই কিন্তু আমাদের ব্যত্যয় ঘটে। এই অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু হয়েছে। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতি কেজি আলুর দাম হিমাগার পর্যায়ে২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর।

এম২৪নিউজ/আখতার