রংপুরে হত্যা মামলায় দুই আসামীর মৃত্যুদন্ড, এক নারীর যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুরে চাঞ্চ্যকর অ্যাডভোকেট আসাদুল হক হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড ও এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ড প্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় এ রায় প্রদান করেন রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ এর বিচারক হাসান মাহমুদুল ইসলাম।রংপুর নগরীর ধর্মদাস বারো আউলিয়া মহল্লায় নিজের বাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে দুস্কৃতিকারীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নৃশংস ভাবে নিহত রংপুরের খ্যাতিমান আইনজিবী আসাদুল হক এ্যাডভোকেট হত্যা করা হয়। রায় ঘোষনার সময় তিন আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে তাদের কঠোর পুলিশী পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরনে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ জুন তারিখে আইনজিবী আসাদুল হকের স্ত্রী ছেলে মেয়ে সহ স্বজনরা মিঠাপুকুরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। এ সুযোগে বারআউলিয়া মহল্লার আসামী রতন মিয়া ও খোদ্দ তামফাট মহল্লার সাইাফুল ইসলাম বাসার দেয়াল টপকে দুপুর আড়াইটায় বাসায় প্রবেশ করে আইনজিবী আসাদুল হককে ছোড়া দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে উপযূপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দেয়াল টপকে পালিয়ে যাবার সময় এলাকার লোকজন খুনি রতন কে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোড়া সহ হাতে নাতে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট মেয়ে মোছাম্মৎ আরফিন নাহার অংকন বাদী হয়ে দুই আসামীর নাম উল্লেখ করে রংপুর মেট্রোপলিটান তাজহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রবিউল ইসলামের হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করায় মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সিআইডি পুলিশ তদন্ত শেষে আসামী রতন, সাইফুল ইসলাম ও মোরশেদা বেগমের নামে আদালতে চাজসীট দাখিল করে। মামলায় ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী ও জেরা শেষে আসামী রতন ও সাইফুল ইসলামকে দোষি সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। সেই সাথে দুজনকে ৫০ হাজার করে জরিমানা এবং আসামী মোরশেদা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দে সেই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদন্ডের আদেশ দেন। সেই সাথে মামলার তদন্তে চরম গাফিলতি করার অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটান পশুরাম থানার ওসি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দ্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাষ্ট্র পক্ষের পিপি আব্দুল মালেক বলেন, রংপুর আইনজিবী সমিতির সদস্য সিনিয়র আইনজিবী আসাদুল হক হত্যা মামলায় আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এ রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি সেই সাথে হাইকোর্টে দ্রæত ডেথ রেফারেন্স নিস্পত্তি করা হবে বলে দাবি করছি।

মামলা পরিচালনাকারী আইনজিবী অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার বলেন, এই মামলায় আসামী রতন ও সাইফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন আইনজিবী আসাদুল হককে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনাকে বিচারক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। সেই সাথে এই নৃশংস খুনের একমাত্র সাজা মৃত্যু দন্ড ছাড়া অন্য কোন দন্ড দেয়া যায়না। তাদের মৃত্যু দন্ডই হলো একমাত্র শাস্তি। তিনি বলেন, বিজ্ঞ বিচারক আরো বলেছেন আসামী রতন ও সাইফুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।

নিহত আইনজীবি আসাদুল হকের ছোট মেয়ে মামলার বাদী আরফিন নাহার অংকন রায় ঘোষনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষনার পর তিনি বলেন একটু দেরীতে হলেও এ রায়ে তার পরি বার এবং সে নিজে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

আসামী পক্ষের আইনজীবি মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতে আপিল করার আমাদের অধিকার আছে। আমরা আপিল করবো।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply