রংপুরে ৩০ লাখ টাকার জন্য বিচারকের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

শেয়ার করুন

রংপুর অফিস:

রংপুর চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শ্রী দেবাংশু কুমারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করেছেন তার স্ত্রী চিকিৎসক হৃদিতা সরকার । মামলায় ওই বিচারক স্বামী ছাড়াও আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত- ২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামানের আদালতে আবেদনটি করেন । আদালত আগামী ২১ এপ্রিল মামলাটি শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন।

রংপুরের আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ (পিপি) খন্দকার রফিক হাসনাইন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একজন বিচারকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর মামলা দায়েরের ঘটনায় আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন দেবাংশু কুমার সরকার (৩২), তার বাবা সুধাংশু কুমার সরকার চয়ন (৬০), ফুফাতো ভাই নিলয় দে সরকার (২৭) ও চাচা রঞ্জন সরকার (৫০)।

সকলের ঠিকানা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা। অভিযোগকারী চিকিৎসক হৃদিতা সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে পিপি জানান।

মালার বাদী ডাঃ হৃদিতা সরকার আদালতে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে জানান তিনি রংপুর মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জন করে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি ২০১৫ সালের ১১ মে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার হালুয়াঘাট পূর্ব বাজার এলাকার সুধাংশু কুমার সরকার চন্দনের ছেলে দেবাংশু কুমার সরকারের সাথে একই উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের নারায়ন সরকারের মেয়ে হৃদিতা সরকারের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ওই দিন বিবাহের আসরে বর দেবাংশু কুমার সরকার ও তার পরিবার নগদ কনেপক্ষের কাছে ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে বিবাহ ভেঙে যাবার উপক্রম হয়।

পরে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় হিন্দু আইনে বিবাহ সম্পন্ন হয়। কনের বাবা বিবাহ অনুষ্ঠানে পঞ্চাশ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল (উপহার সামগ্রী) বরপক্ষকে দেন। বিবাহের কয়েক মাস পার না হতেই দেবাংশু কুমার সরকার নেশাগ্রস্থ হয়ে নতুন একটি কার গাড়ি ক্রয়ের জন্য তার স্ত্রী হৃদিতা সরকারের ওপর ৩০ লাখ টাকার চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু হৃদিতা সরকার তার বাবার অক্ষমতার কথা জানালে স্বামীসহ শশুড়বাড়ির লোকজন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।

এরই মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে নেত্রকোনা হয়ে রংপুর জজশীপে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করলেও যৌতুকের জন্য নির্যাতন, পরকীয়া ও মাদক সেবনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন। স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে সন্তানের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে আসামি দিন দিন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন।

অবশেষে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে দাবি করা যৌতুকের টাকা না পেয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আসামি দেবাংশু কুমার সরকার। বিষয়টি জানাজানি হলে দেবাংশু ত্রিশ লাখ টাকা ছাড়া তার প্রথম স্ত্রী হৃদিতা সরকারের সাথে সংসার না করার সিদ্ধান্ত জানান। গত ২৮/০৩/২২ইং তারিখে সন্ধা অনুমান সাড়ে ৭ টার দিকে বাদী ও তার স্বজন এবং সাক্ষীরা সহ আসামী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট দেবাংসু কুমার সরকারের সাথে দেখা করার জন্য আসলে আসামীর দেখা না পেয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর সাথে দেখা করে আসামীর জন্য আদালত প্রাঙ্গনে অপেক্ষা করা কালে আসামী তার চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি প্রচন্ড মারধর করে বাম কানে নাকে ও মুখে স্বজরে ঘুষি মারতে থাকে এবং এলাপাতাড়ি চর থাপ্পর ও ঘুষি দেবার ফলে বাদীর নাক মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। আসামী বাদীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দুই হাত দিয়ে স্বজরো গলাচাপিয়া ধরে হত্যা করার চেষ্টা করে। বাদী জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজন ও সাক্ষীরা তাবে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসাধিন থাকার পর সুস্থ হয়ে ১৭/০৪/২২ইং তারিখে রংপুর মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে পৃুলিশ মামলা গ্রহন না করায় আদালতে অভিযোগ করলেন বলে জানান।

বাদীপক্ষের আইনজিবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রংপুর-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর বিশেষ (পিপি) খন্দকার রফিক হাসনাইন সাংবাদিকদের জানান, রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদারত ২ এর বিচারক রোকনুজ্জামানের আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক শুনানী শেষে আগামী ২১ এপ্রিল বাদীর জবানবন্দি গ্রহন সহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে তারিখ ঘোষনা করেছেন ।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply