‘উইঠ্যা আয় বাবা, তোরে স্কুলোত ভর্তি করামু’

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

‘আয় বাবারে, উইঠ্যা আয়। আমি তোরে স্কুলোত ভর্তি করামু। বাবারে তোরে আর স্কুলোত ভর্তি করান হইলো না। আমারে কইছিলি তুই স্কুলোত পড়বি।’ -এভাবেই পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইউসুফ আলীর কবরের পাশে আহাজারি করছিলেন মা আসমা বেগম।

পৈতৃক সম্পত্তির লোভে ইউসুফ আলীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে তার সৎ ভাই আব্দুর রহিম। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাট বুড়িরদীঘি গ্রামে। পরিবারের অন্যদের সহযোগিতায় আব্দুর রহিম এ অপরাধ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ৩ ডিসেম্বর সকালে ইউসুফকে ঘরে ডেকে নিয়ে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেয় সৎ ভাই রহিম। এতেই ইউসুফের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পাশে কবর দেয়া হয় ইউসুফকে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আব্দুর রহিম, তার বাবা ছফর উদ্দিন, মা রাহেনা বেগম, বোন জোসনা বেগম, দুই বোন জামাই রিয়াজ উদ্দিন ও বেলাল হোসেনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন শিশুটির মা আসমা বেগম। আব্দুর রহিমের ঘর থেকে বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মৃত ইউসুফ আলীর মা আসমা বেগম জানান, তিনি ছফর উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাদের ঘরে দুই সন্তান। মেয়ে সাদিয়া আক্তার মীম বড়, ছেলে ইউসুফ ছোট। স্বামীর ১৩ বিঘা জমির অংশীদারিত্ব তার একমাত্র ছেলে না পায় সেজন্য তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে সতীনের ছেলে আব্দুর রহিম। এতে রহিমকে সহযোগিতা করেছে তার বাবা, মা, বোন ও বোন জামাইরা। এমন অভিযোগ আসমা খাতুনের।

মৃত ইউসুফ আলীর মামা শফি বিশ্বাস বলেন, আমার বোনকে প্রায় এক ঘরে করে রাখা হয়েছিল। অনেক কষ্টে সে দুই সন্তানকে বড় করছিল। ছেলেকে হারিয়ে আমার বোন এখন পাগলপ্রায়। সবসময় কবরের পাশে কান্নাকাটি করে। শুধু সম্পদের লোভে আমার অবুঝ ভাগনেকে হত্যা করা হলো। আমি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার কও বিচারের দাবি জানাই।

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার