আখ মাড়াই বন্ধের সিদ্ধান্তে গোবিন্দগঞ্জে অর্ধদিবস হরতাল পালিত

শেয়ার করুন

নিউজ ডেস্ক:

মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত এ হরতাল পালিত হয়।

হরতাল চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে এখানকার ব্যাংক-বীমা, দোকাটপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এছাড়া ছোট-বড়ো কোনো প্রকার যানবাহনই চলাচল করেনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রংপুর চিনিকল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মহিমাগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে বিক্ষোভকারীরা রেল লাইনের ওপর বসে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে। ফলে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি মহিমাগঞ্জ স্টেশনের প্লাটফরমে ঢোকার আগেই বিক্ষোভকারীরা সকাল ১১টার দিকে আটকে দেন। একই কারণে পার্শ্ববর্তী বোনারপাড়া স্টেশনে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজির হোসেন, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মেহেদী হাসান অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ করে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। তখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি এমএ মতিন মোল্লা, রংপুর চিনিকল আখচাষী সমিতির সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সীমাহীন দুর্নীতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, বিলাসবহুল গাড়িসহ সকল ধরণের কেনাকাটায় ব্যাপক লুটপাটের জন্য পুরো সংস্থাই লোকসানের মুখে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, চিনিশিল্প আধুনিকায়নের নামে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ না করে সকল চিনিকলকেই ঋণে জর্জরিত করে রেখে বিদেশে প্রচুর টাকা পাচার করেছে এই আমলারা। এখন তাদের অপকর্মের ভার সাধারণ চাষী ও শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান দেশের সকল চিনিকল বন্ধ করার মাধ্যমে চিনি শিল্পটাকেই ধ্বংস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

তারা অবিলম্বে সকল চিনিকল আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগুলো চালানো ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানইত সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন

এম২৪নিউজ/আখতার