পানিবন্দী কুড়িগ্রামের লাখো মানুষ

নিউজ ডেস্ক:

কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রসহ সবকটি নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এতে জেলার আটটি উপজেলার প্রায় আড়াই শতাধিক চর ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তিন হাজার ৬২২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাকসবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল।

রোববার ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউপির ভগবতীপুর চরের বাসিন্দা জামান জানান, চরের সবগুলো বাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে রয়েছেন তিনি।

একই উপজেলার পাঁচগাছী ইউপির কৃষক মজিদ মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলেও আর লাভ হবে না।

ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী, শিমুলবাড়ী, ভাঙামোড়, নাওডাঙ্গা ও বড়ভিটা ইউপি প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি পানিত তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

বড়ভিটা ইউপির চরবড়লই গ্রামের শুলকু মামুদ বলেন, বন্যায় আমার ঘর তলিয়ে গেছে। বাড়ির নয় সদস্যকে নিয়ে উঁচু পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়েছি।

ফুলবাড়ীর ইউএনও তৌহিদুর রহমান বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউপির মধ্যে ফুলবাড়ী, শিমুলবাড়ী, ভাঙামোড়ে বন্যা হয়েছে। আংশিক বন্যা হয়েছে বড়ভিটা ও নাওডাঙ্গা ইউপি। বন্যাকবলিত ইউপিগুলোর মধ্যে ৯২০টি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। এসব পরিবারের মাঝে দুই-একদিনের মধ্যে ত্রাণ দেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন নতুন এলাকার বীজতলাসহ ফসল পানিতে তুলিয়ে গেছে।

দুই-তিনদিনের মধ্যে ধরলা ও তিস্তার পানি কমমলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকবে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্যায় ৩০২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের পাশাপাশি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।