
মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ:
চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের শিশু শিক্ষার্থীদের ৩০ শতাংশই ঝরে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনা মহামারির পরে শিশুরা নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর মধ্যে শিশু শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বাড়বে। বাড়বে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে। একই সঙ্গে বাড়বে প্রসবজনিত মৃত্যু ও শিশুমৃত্যু। দেশব্যাপী গবেষণায় এ তথ্য জানিয়েছে ‘বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে)’।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, করোনার পরে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আর ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকবে না। খাবারের অভাব তাদের শ্রম দিতে বাধ্য করবে। কারণ, চলমান মহামারির ফলে অনেক গরিব পরিবার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে, সেক্ষেত্রে তাদের সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতে চাইবে। এই ৩০ শতাংশ যারা ঝরে পড়তে পারে, তাদের একটা ডাটাবেস সরকারিভাবে এখনই করা দরকার। এ তালিকা শিক্ষকদের দিয়ে করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোর শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বৃত্তি ও এক বেলা করে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। অনলাইন শিক্ষা বৈষম্য তৈরি করে দিচ্ছে। মহামারি-উত্তর পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই শিক্ষাউপকরণ ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়বে। এসব সমস্যা সমাধানে পিপিপি অর্থাত্ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, তাদের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে হয়তো স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়ে যাবে, কিন্তু শিক্ষায়ও যে প্রস্তুতি দরকার সেটা নিরুপণের লক্ষ্যে এ গবেষণা করা।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে যে গাইডলাইন দিয়েছে, সেখানে বলা আছে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক দিতে হবে। দেশে স্কুল-কলেজ পুনরায় খুলে দিলে লাখ লাখ মাস্ক লাগবে। সেই প্রস্তুতি কি আমাদের আছে? তিনি বলেন, আগামী বাজেটে কোনো ভাবেই শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দেওয়া যাবে না, বরং অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সূত্র: ইত্তেফাক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.