
অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু করতে করোনা ভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলমান লকডাউন আরো শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশই এরই মধ্যে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই।’
কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে জনগণের সহায়তায় সরকার যে সব কর্মসূচি চালু করেছে, তা বর্তমান সংকট না যাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝড়-ঝঞ্ঝা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকাবিলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের এই মহামারি সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোনো প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনা ভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করে লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনার বিস্তাররোধে সরকারের পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা চিকিত্সা সক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনা ভাইরাস চিকিত্সায় সম্পৃক্ত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ কর্মহীন মানুষের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৭ টন চাল এবং নগদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য ৮০ হাজার টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া তিনি ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা প্রদান ও কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামদের জন্যও সরকারের পৃথক বরাদ্দের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উত্পাদন ব্যবস্থাকে পুনরায় সচল করতে তার সরকার এরই মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষকগণ যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান সেজন্য চলতি মওসুমে ২২ দশমিক ২৫ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ টন বেশি। ধান কাটা-মাড়াইয়ে সহায়তার জন্য আমরা কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টর এবং রিপার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এজন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজে যোগ দিতে পারেননি, তারাও শতকরা ৬০ ভাগ বেতন পাচ্ছেন। এরই মধ্যে এ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা শুরু হয়েছে।’
তার সরকার ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশী সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে।’
বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সব শহিদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’-এর কয়েকটি চরণ উদ্ধৃত করে বক্তব্য শেষ করেন।
রাজাপক্ষেকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে ফোন করে তার রাজনৈতিক জীবনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, ‘শেখ হাসিনা বুধবার সকালে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেন এবং তার রাজনৈতিক জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় তাকে (রাজাপক্ষে) আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে নরেন্দ্র মোদির ঈদ শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঈদুল ফিতরের দিন সোমবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে তাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও ঈদ উপহার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অন্যান্য উপলক্ষ্যের মতো প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে (মুক্তিযাদ্ধা টাওয়ার-১) শহিদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের জন্য তার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠান।
প্রধানমন্ত্রীর ভিন্ন রকম ঈদ উদ্যাপন
বিশেষ প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় ঈদ উদ্যাপন করেছেন। সাধারণত ঈদের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, বিচারক, বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের কারণে গণভবনে কোনো অনুষ্ঠানই ছিল না। তবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে স্বল্প পরিসরে বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠান।
সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.