
নিউজ ডেস্ক:
বয়স সবে তেইশ পেরিয়েছে। এখনো সেভাবে চেহারাতে দাঁড়ি গোঁফের অস্তিত্ব প্রকাশ পায়নি। পুরো অবয়ব জুড়ে নিষ্পাপ একটা আর সুবোধ হবার ইঙ্গিত। নাম তার জসিমউদ্দিন রানা।
বরগুনার পাথরঘাটার থানার পদ্মা করমজাতলা এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে এই বয়সে ধর্ষণ করেছেন প্রায় অর্ধশত।
দুটি পাতানো বিয়ে করে সংসার করেছেন গত ৪ বছর যাবত। রয়েছে আড়াই বছরের কন্যা পারভীন। এরইমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাতানো দ্বিতীয় স্ত্রী মাদারীপুর সদর থানার চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুরভী আক্তারকে হত্যা করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।
আটক রানা মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে কিশোরীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলা, পাতানো বিয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভার কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকার ভাড়াটিয়া জসিমউদ্দিন রানা তার স্ত্রী সুরভী আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
সোমবার রাতে জসিমউদ্দিন রানার নিজবাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা থানার পদ্মা করমজাতলা এলাকার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে আটক রানা নারায়ণগঞ্জ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
স্বীকারোক্তিতে রানা জানায়, ১৫ বছর বয়স থেকেই তার বিকৃত যৌন লালনা ছিল। রানা স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করতো। এ কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতো রানা। যেখানেই যেতো সে এলাকার বিধবা নারী অথবা কিশোরীদের কথার মায়াজালে ফেলে ধর্ষণ করতো।
২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নোনদা এলাকার নান্নু মিয়ার মেয়ে নাজনীন বেগম প্রেমের টানে তার কাছে ছুটে এলে সে তাকে ঘরে তুলতে বাধ্য হয়। পরে নকল কাজী দিয়ে বিয়ের নাটক করে নাজনীনের সঙ্গে সংসার শুরু করে রানা। তাদের দাম্পত্য জীবনে পারভীন নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
গত বছর তাকে ফেলে পালিয়ে ঢাকার সাভারে চলে যায় রানা। সেখানে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মাদারীপুরের সদর থানার চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুরভী আক্তার তার কাছে ছুটে এলে আবারো নকল কাজী দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রানা।
বিয়ের ব্যাপারটি রানার কয়েকজন প্রেমিকা টের পেয়ে যাওয়ায় সে সাভার থেকে গত ২ মাস আগে রূপগঞ্জে চলে আসে। প্রাণ কোম্পানির এসআর পদে চাকরি নিয়ে কাঞ্চন বাজারের মনির মাস্টারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করে।
এদিকে তার পাতানো স্ত্রী সুরভি নকল বিয়ে ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আসল কাবিন করতে চাপ দেয়।
অন্যথায় তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেয় সুরভী। এতে ঘাবড়ে গিয়ে রানা স্ত্রী সুরভীকে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে পোলাও মাংস রান্নার আয়োজন করে। রাতের আহারের পর কোকাকোলার সঙ্গে নেশাজাত ট্যাবলেট খাইয়ে সুরভীকে অচেতন করে। পরে রাতেই সুরভির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যার পর ঘর বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে বরগুনায় পালিয়ে যায়।
সুরভী মারা গেছে সেই খবর আবার শ্বশুর দেলোয়ার হোসেনকে মোবাইলে জানায়। এ ঘটনায় সুরভীর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনার পাথরঘাটার থানার পদ্মা করমজাতলা এলাকার তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে । পরে মঙ্গলবার দুপুরে রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্ত্রী সুরভীকে হত্যা ও ৪৮টি ধর্ষণসহ এসব অপকর্মের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহামুদুল হাসান বলেন, আমার চাকরি জীবনে এমন নৃশংস সিরিজ ধর্ষক আর হত্যাকারী অপরাধী আগে পাইনি। হত্যার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের রয়েছে। রানার অন্যান্য অপকর্মগুলোও তদন্ত করা হবে। কেউ মামলা করলে সেটাও আমলে নিবে পুলিশ।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.