
অনলাইন নিউজ:
পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘একটি কথা বলতে চাই, আমার এই কথাটি সরকারি মহলে প্রিয় নয়, জানি। সেটা হলো পঞ্চম শ্রেণির ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে কিন্তু অভিযোগ আছে। আমার মনে হয় যাঁরা দেশ চালাচ্ছেন, নীতি নির্ধারণ করছেন, তাঁদের সামনে গিয়ে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা সত্যি কথাটি হয়তোবা প্রকাশ করেন না। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা এভাবে খুব অসহায় বোধ করেন। কিন্তু যারা প্রাইভেট পড়ায় ও নোট-গাইড প্রকাশের অভিপ্রায় আছে, তারা কিন্তু মহাখুশি। তাই দৃঢ়ভাবে সুপারিশ হবে, এই কোভিড-১৯-এর কারণে এবার এই দুই পরীক্ষা হয়নি। একে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া যায় কি না, সেই চিন্তা বোধ হয় করা দরকার।’
২০০৯ সালে হঠাৎ করেই জাতীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে সরকার। প্রথমে শুধু সাধারণ ধারার শিক্ষায় এটি সীমাবদ্ধ ছিল। পরে মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পঞ্চম শ্রেণির সমমান) পরীক্ষাও চালু করা হয়। ২০১০ সালে জেএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। এসব পরীক্ষা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করছে। তাই এই পরীক্ষা বাদ দিতে শিক্ষাবিদ, শিক্ষাবিষয়ক গবেষক ও অভিভাবকদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন। এমন অবস্থায় মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এই দুটি পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিলেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সুপারিশ করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের আলোচনার সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে নানা মত রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিকের পরীক্ষাটি অধিকাংশ মানুষই বলছেন তাঁরা এটি চান না। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা নানা জায়গায় হচ্ছে। এটি নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে নেই। তারপরও এগুলো নিয়ে আমরা ভেবে দেখছি।’
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার প্রস্তুতিসহ শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আলোচনায় মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন শিক্ষার বিভিন্ন সংস্কার নিয়েও কথা বলেন। তিনি কম বয়সীদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ হলো, দিনে দুটি পালায় ভাগ করে (সকালে একটি পালা এবং বিকেলে একটি পালা) ক্লাস নেওয়া। প্রতি ভাগ সপ্তাহে তিন দিন বিদ্যালয়ে আসবে।
এভাবে শিক্ষকদের অতিরিক্ত খাটুনি হবে। তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের মূল বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দিয়ে অনুপ্রাণিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
ফরাসউদ্দিন বলেন, এভাবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাটছাঁট সিলেবাসে তিন মাস ক্লাস করতে পারলে মে মাসের শেষে এসএসসি এবং জুনের শেষে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তিনি উচ্চশিক্ষায় প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হাসিবুল আলম, ইউনেসকোর বাংলাদেশের প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালডুন প্রমুখ। সুত্র: প্রথম আলো অনলাইন।
এম২৪নিউজ/এসএ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.