
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে শিলাবৃষ্টিতে ও কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর-বাড়ি, হাঁড়িভাঙা আম ও পাকা ধানসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ সময় বড় বড় একেকটি শিলার আঘাতে স্কুলের ঘর সহ শত শত টিনের ঘর ফুটো হয়ে যায়। ঝড়ে পড়ে যায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের গুঁটি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে হঠাৎ শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ে রাণীপুকুর, খোড়াগাছ ও ময়েনপুর ইউনিয়নে বেশি ক্ষতি হয়।
রাণীপুকুর ইউনিয়নের লালচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মহুবার আলী বলেন, হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য বিখ্যাত খোড়াগাছ ইউনিয়নের রূপসী গ্রামের কৃষক আখেরুজ্জামান বলেন, রাত ৩ টার দিকে হঠাৎ প্রচন্ড বাতাসে হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়েছে আমের গুটি।
এরআগে সকালে প্রায় ১ ঘন্টা ধরে মাসিমপুর, মিলনপুর ও বড়বালা ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টি হয়। এতে খিয়ারপাড়া, চাঁনটারী, তরফসাদী, নয়াপাড়া, রঘুনাতপুর, পলিপাড়া ও ছড়ান ব্রীজ এলাকায় বেশী ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ফারাবী প্রি-ক্যাডেট আইটি স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, শিলাবৃষ্টিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ৬টি রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় ফুটো হয়ে গেছে টিনের ঘরের চাল।
চাঁনটারী গ্রামের কৃষক আকমল হোসেন জানান, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ধানসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর আমাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হবে।
একই গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, শিলাবৃষ্টির কারনে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি আমরা। বড় বড় একেকটি শিলার আঘাতে টিনের ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। ঘরে এখন থাকাই অসম্ভব।
খিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক আনিছার রহমান বলেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে বাড়ি-ঘরের পাশাপাশি আমেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন পলিপাড়া মাসিমপুর গ্রামের কৃষক রায়হান মিয়া সহ স্থানীয় অনেকেই।
মঙ্গলবার বিকালে শিলাবৃষ্টিতে ঘতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ও ভাইচ চেয়ারম্যান নিরঞ্জন মহন্ত। এসময় তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ৭ হেক্টর আবাদি জমির ধান, ২ হেক্টর ভূট্টাক্ষেত ক্ষতি হয়েছে। হাঁড়িভাঙা আমের গুঁটিও নষ্ট হয়েছে। আমরা কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পরামর্শ দিচ্ছি।’ তবে, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা এখনও সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.