
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। রবিবার (২৫ আগষ্ট) দুপুরে এই কর্মসূচীতে সহস্রাধীক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডারের টাকা লুটপাটসহ নানা অভিযোগ তোলেন। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুঁলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- তরফসাদী খায়রুল উলুম দাখিল মাদরাসা ও মির্জাপুর বছির উদ্দিন ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মিলনপুর ইউনিয়নের তরফসাদী খায়রুল উলুম দাখিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন। মিছিলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাকরা অংশ গ্রহন করেন। পরে একই দাবিতে মানব বন্ধন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন সহকারী সুপার আবু তালেক, সহকারী শিক্ষক মোক্তার হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রউফ, শিক্ষার্থী মুন শাহীন, সাবেক সভাপতি এহতেশামুল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাদরাসার সুপার দির্ঘদিন ধরে মাদরাসার অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ৫টি নিয়োগ, মাদরাসার জমি লীজ, গাছ বিক্রির টাকা খেয়ে ফেলেছেন। এতোদিন কাউকে কোন হিসাব দেননি। তিনি প্রায় ৬ মাস ধরে ঠিকমত মাদরাসায় আসেন না। এর প্রতিবাদ করলে তিনি রাজনৈতিক ভাবে হেনস্থা করেছেন। এ কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছেন। সকলে ওই সুপারের পদত্যাগ দাবি করছেন। মাদরাসার সুপার আক্কাস আলী বলেন, একটি কু-চক্রী মহল বর্তমান পেক্ষাপটে সুযোগের সৎ ব্যবহার করছেন। মাদরাসার জমি লীজের সকল টাকা বালুয়া কৃষি ব্যাংকে গচ্ছিত আছে। কোন অনিয়ম ও দূর্নীতির হয়নি বলে দাবি করেন সুপার।
অপরদিকে, মির্জাপুর বছির উদ্দিন ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। রবিবার দুপুরে মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি বিক্ষাভ মিছিল করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ ক্ষমতার জোরে ৮টি নিয়োগে প্রায় কোটি টাকার বানিজ্য করেছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে বিষয়টি তিনি ধামাচাপা দিয়েছেন। মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী গালিব ইসলাম বলেন, নিয়োগ বানিজ্য করে অধ্যক্ষ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা অবিলম্বে অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। একাদশ শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী হযরত আলী বলেন, আমরা আগামী ৭ দিনের মধ্যে অধ্যক্ষের পরত্যাগ দাবি করছি। ওই কলেজের অধ্যক্ষ মুশফিকুর রহমান সুমন বলেন, আমি যে দূর্নীতি করেছি সেটি প্রমান সাপেক্ষ ব্যাপার। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সারা দেশের মত এই প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনিয়ম ও দূর্নীতি থেকে থাকে, তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.