
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে গোপালপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ফেরার পথে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী (১৩) অপহরণের শিকার হয়েছেন। প্রায় মাস খানেক থানায় ঘুরেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় মামলা হলেও অপহরণকারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অপহরণকরারীকে শিশু দেখিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরফলে আবারও দ্বিতীয় দফায় ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন আসামীরা। অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোপালপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে নিয়মিতভাবে উত্যক্ত করত কুঠিরপাড়া গ্রামের যুবক জাহিদ হোসেন। প্রায় বছর খানেক ধরে উত্যক্তের এ পর্যায়ে চলতি বছরের ২৮ফেব্রুয়ারী স্কুল থেকে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেন জাহিদ হোসেন। দির্ঘদিন মেয়েকে খুজে না পেয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা রেমানুল ইসলাম। কিন্তু পুলিশ প্রায় মাস খানেক ঘুরিয়েও মামলা নেয়নি। পরে রংপুর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পান মিঠাপুকুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল হোসাইন।
অপহৃত শিক্ষার্র্থীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর হতে পুলিশ অপহরণকারীদের পক্ষ নিচ্ছে। দির্ঘদিন পরে চার্জশিট দিলেও সেখানে নানা গোজামিল দিয়ে অপহরণকারীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। মূলত. অপহরণকারী জাহিদ হোসেনের বয়স ১৮ পেরিয়ে গেলেও তাকে শিশু দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ফলে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ঘটনায় ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে না রাজি করেছেন অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা রেমানুল ইসলাম।
রেমানুল ইসলাম বলেন, আমার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হলো। দির্ঘদিন থানায় ঘুরেও মামলা নেয়নি। পওে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে মামলা রেকর্ডভুক্ত হলেও চার্জশিটে আসামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারা-উপধারা। আমি থানা-পুলিশ ও আদালতে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আদালত আমার মেয়েকে ভিকটিমসাপোর্ট সেন্টারে রাখার পর মেয়েকে আমার জিম্মায় তুলে দেয়। আমার মেয়ে আবারও নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছিল। হঠাৎ একদিন আবারও স্কুল থেকে ফেরার পথে আমার মেয়েকে অপহরণ করেন ওই আসামীরা। তাকে উদ্ধারে সহযোগীতা করছেনা পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দির্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর অপহৃত ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে কুঠিরপাড়া গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন অপহরণকারী জাহিদ হাসান। তিনি ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বিয়ে রেজিস্ট্রির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বয়স কম হওয়ার বিয়ে রেজিষ্ট্রি করেননি বলে জানিয়েছেন জাহিদ হোসেনের বাবা আব্দুল খালেক।
গোপালপুর হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মবিনুল ইসলাম বলেন, অষ্টম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী খুব মেধাবী ছিল। শুনেছি বাড়ি ফেরার পথে সে অপহরণ হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠাপুকুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘ঘটনাটি প্রেম ঘটিত। আমরা অপহৃত ও অপহরণকারীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছিলাম। এখন আদালতে বিচার হবে।’
তদন্তে আসামী ও কিছুধারা-উপধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে?- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল হোসাইন আরও বলেন, তদন্তে আমি যেমনটি পেয়েছি, তেমনি রিপোর্ট দিয়েছি।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.