
স্টাফ রিপোর্টার:
‘আমি সচিব- তুমি কে? তোমাকে এখানে কে আসতে বলেছে? রাস্তার জায়গায় আমার জমি আছে। আমি সেখানে বাড়ি করব- তাতে কার কি আসে যায়?’ রংপুরের মিঠাপুকুরে একশ বছরের চলাচলের রাস্তা দখলে নিয়ে চলাচল বন্ধ করে সেতু মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শফিকুল ইসলাম বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করলে জনগণ বাধা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যামেরায় ছবি তোলায় তিনি সাংবাদিকদের হুমকী দিয়ে এসব কথা বলেন।
উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শাল্টিপাড়া গ্রামে গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর লালবাগ-ভেন্ডাবাড়ি সড়কে শাল্টিপাড়া “ছ” মিল নামক স্থানের অদুরে ওই গ্রামের ভেতরে যাওয়ার জন্য একটি কাঁচা রাস্তা চলে গেছে। প্রায় একশ বছর ধরে গ্রামবাসি রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করছে।
রাস্তার দুই পাশে জমি রয়েছে প্রভাবশালী শফিকুল ইসলামের। তিনি সেতু মন্ত্রণালয়ের একজন উপ-সচিব বলে জানা গেছে। ফুলজার হোসেন, রেজোয়ান, নুরনবী, সূর্য্য, রানা, সোলজার, মোকছেদুল, সেকেন্দার, জোনাব, সুলতান, তবার, মোতাহার, শাহারুল, আনারুল, মহুবুল, গুটুসহ বলেন, শফিক সাহেব ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার নকশা পরিবর্তন করে নেন। এরপর গ্রমিবাসির চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে সেখানে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা আঁটেন।
শুক্রবার তিনি স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি লোকদের জড়ো করেন। লাঠি-সোডাসহ তারা পাহারা দিচ্ছিল। এর ফলে, কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। বিকেলে গ্রামবাসি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীব্র প্রতিরোধের মুখে ওই প্রভাবশালীর লোকজন পালিয়ে যায়। পরে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি।
’ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করা হলে শফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। উপ-সচিব বলেন, আমি একজন সচিব। তুমি এখানে কেন এসেছে? আমার অনুমোতি না দিয়ে ছবি তোলার সাহস পেলে কিভাবে?’
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল পাইকাড় দীলিপ বলেন, জনগনের স্বার্থ তোয়াক্কা না করে তিনি একক ক্ষমতাবলে রাস্তা বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। পরে, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি মিমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দ্বায়িত্ব দিয়েছি।’
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.