
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের টাকা আত্মসাৎ সহ প্রতিষ্ঠানের জমি নিজের কবজায় নিয়ে ভোগদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।
নিয়মবহির্ভূত ভাবে সাড়ে চার বিঘা জমি ও সাড়ে চার বিঘা পরিমান দু’টি পুকুর লিজ প্রদানের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দিয়েছেন মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য মোশারফ হোসেন।
লীজ প্রদানের টাকাগুলো মাদরাসায় জমা না দিয়ে পকেটস্থ্য করেছেন সভাপতি। এছাড়াও, নিজের নামে ৩ বিঘা জমি লীজ গ্রহন করেছেন সভাপতি। ১০ বছর ধরে একটানা সভাপতি থাকায় তিনি এসব অনিয়ম করার সাহস পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধাপশ্যামপুর খয়রাতিয়া সিদ্দিকীয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসার জমির পরিমান প্রায় ১২ বিঘা। এরমধ্যে দু’টি পুকুর ও বাকিগুলো চাষাবাদ যোগ্য জমি।
মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সূর্য গত ৪ জুন নিলাম ডাকের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার বিঘা জমি ও সাড়ে চার বিঘা পরিমান দু’টি পুকুর চার বছরের জন্য লীজ প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূত ভাবে সভাপতি নিজের লোকেেদর নামে কৌশলে জমিগুলো লীজ প্রদান করেছেন। এছাড়াও, ৩ বিঘা জমি মাদরাসা সভাপতি ৬ বছরের জন্য নিজের নামে লীজ গ্রহন করেছেন। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় ও অভিভাবকরা। তারা উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মাদরাসার অভিভাবক সদস্য মোশারফ হেসেন বলেন, ‘সভাপতি কোন নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে মাদরাসার সম্পত্তি নিজের মত ব্যবহার করছেন। নিজের লোকদের নামে-বেনামে দির্ঘদিনের জন্য লীজ প্রদান করেছেন। লীজ গ্রহনের টাকাগুলো মাদরাসার ব্যাংক একাউন্টে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ৩ বিঘা জমি সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সূর্য নিজের নামে ৬ বছরের জন্য লীজ গ্রহন করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, মাদরাসার ১২ বিঘা জমি লীজ, দোকানঘর নির্মাণ ও গাছপালা বিক্রির টাকা সভাপতি আত্মসাত করেছেন। সবমিলে প্রায় দুই কোটি টাকা নীজের পকেটে ঠুকিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় তিনি মামলা-হামলার ভয় দেখাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক সদস্য বলেন, মাজহারুল ইসলাম সূর্য প্রায় ১০ বছর ধরে মাদরাসার সভাপতি আছেন। এরমধ্যে তিনি ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। মাদরাসার জমিগুলো নামে-বেনামে নিজের লোকদের লীজ দিয়েছেন। নিয়োগ বাণিজ্য, দোকানঘর ভাড়া, গাছ বিক্রি ও জমি লীজ প্রদানসহ প্রায় ২ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
ধাপশ্যামপুর খয়রাতিয়া সিদ্দিকীয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসার সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সূর্য বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটি মহল আমাকে ফাঁদে ফেলার জন্য অভিযোগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, জমি ও দোকাঘর লীজ প্রদান এবং গাছ বিক্রির এক টাকাও আমি স্পর্শ করিনি।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য একাডেমীক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তদন্তে শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.