
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের তালিমগঞ্জ মোড়ে রাস্তার পাশেই বন বিভাগের ৪৭ শতক জমি রয়েছে। সেই জমি ভাংড়ির ব্যবসার নামে অবৈধভাবে দখল করছেন ভাংড়ী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। বনের জমি দখল হলেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বন বিভাগ ও ভূমি সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, ভাংড়ী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে সরকারি জমি দখল হলেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এদিকে অবৈধ দখলদার নজরুল ইসলাম স্থানীয় ব্যক্তি নুরুল ইসলামের নামে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে ফাঁসানের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সচেতন মহল আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করেছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের তালিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে বন বিভাগের ৪৭ শতক জমি রয়েছে। সেখানে বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় বৃক্ষরোপন করেছেন বনবিভাগ। গাছগুলোও বেশ বড় হয়েছে। তবে বনের গাছ কেটে সেখানে বাড়ি ও ভাংড়ী ব্যবসা খুলে জমি দখল করেছেন অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভাংড়ী। সম্প্রতি সরকারি জায়গায় ইট দিয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাঁধা দেন স্থানীয় তিলকপাড়া গ্রামের আফছার আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৫)। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পাকাঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় নজরুল ইসলাম ভাংড়ী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। জমি দখলের প্রতিবাদকারী নুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ছিলেন। সেই ট্যাগ ব্যবহার করে মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং সরকারি জমি অবৈধ দখলে রাখতে চাঁদা বাজির অভিযোগ করেন ভাংড়ী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলাম ভাংড়ী যে জায়গায় ভাংড়ী ব্যবসা করছেন সেই জায়গাটির মালিক আমরা। আমাদের দলিলপত্রসহ বৈধ কাগজপত্র আছে। ৪০ এবং ৬২ সালের রেকর্ডমূলে বৈধ মালিকের কাছ থেকে আমরা জমিটি ক্রয় করেছি। কিন্তু সর্বশেষ ৯২ সালের রেকর্ড বন বিভাগের নামে হলে বর্তমানে বন বিভাগের অধীনে জমিটি রয়েছে। আমরা আদালতে মামলা করেছি রায় পেলে জমি দখলে নেব। কিন্তু আমাদের জমি বনবিভাগ অন্য কাউকে দখলে দিবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে বন বিভাগ ছাড়া আর কারো স্থাপনা থাকা আইনগত অপরাধ। ঘটনার দিন নজরুল ভাংড়ী সেখানে পাকাঘর নির্মাণ করছিল আমি বাঁধা দিলে আওয়ামীলীগ ট্যাগ দিয়ে চাঁদা বাজির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
ভাংড়ী ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, যেখানে ব্যবসা করছি জায়গাটা অবৈধ এবং বনবিভাগের। কিন্তু আমি সরকারি জায়গায় ব্যবসা করছি। আমার কাছে ইসালাম প্রায় সময় টাকা চায় এবং জমি ওদের দাবি করে। সর্বশেষ ১ লাখ টাকা চাঁদা করে। আমি গত ৩ দিন হয় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
মিঠাপুকুর উপজেলার আওতাধীন হেলেঞ্চা বন বিট কর্মকর্তা জেএসান ইসলাম বলেন, অবৈধ দখলদার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পাকা ঘর নির্মাণ বা অন্য কোন স্থাপনা না করার জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও এবং এসিল্যান্ড স্যারকে অবগত করা আছে। খুব শীঘ্রই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.