
স্টাফ রিপোর্টার:
নিখোঁজের ৫১ দিন পর মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় হোসনা বেগম নামে এক গৃহবধুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে স্বামীর বাড়ির পাশে একটি আবাদি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হোসনার স্বামী আনারুল হককে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যেমতে কালো কাপড় পরানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর আকন্দপাড়ায় মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট মিঠাপুকুর থানায় হোসনার স্বামী আনারুল হক ও তার মা আনোয়ারা বেগমের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হোসনার বাবা হাসমত আলী। হোসনার বাবার বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে।
লিখিত অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হাসমত আলীর মেয়ে হোসনা বেগমের সাথে মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর আকন্দপাড়া গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে আনারুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই হোসনার ওপর নেমে আসে নানা অত্যাচার। কথায় কথায় মারধর শুরু করেন আনারুল। গত ছয় মাস আগে হোসনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সামান্য কথার অজুহাতে কিলঘুষি মারলে হোসনার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। শত নির্যাতনের পরেও স্বামীর সংসার আকড়ে ছিল হোসনা বেগম। গত মাসের ২৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে হোসনা স্বামীর বাড়িতে যান। এরপর থেকে হোসনার সঙ্গে বাবার বাড়ির লোকজনের যোগাযোগ ছিল না।
গত ২৬ আগস্ট বদরগঞ্জ থেকে মেয়ের খোঁজে জামাইয়ের বাড়িতে যান হোসনার বাবা হাসমত আলী। বাড়িতে গিয়ে দেখেন বাড়ির সব ঘরে তালা মারা। কোথাও বাড়ির লোকজন নেই। জামাই আনারুলের মোবাইল ফোনও বন্ধ। পরে পাশের বাড়িতে আনারুলের মা আনোয়ারা বেগমের খোঁজ মেলে। হাসমত জানতে চান, বাড়িতে তালা মারা কেন। তার মেয়েই বা কোথায়। এতে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেনি আনোয়ারা। পরে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে হাসমত জানতে পারেন, কিছুদিন আগে হোসনাকে বেদম মারপিট করা হলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে আর তার দেখা পাওয়া যায়নি। এতে হাসমত আলীর সন্দেহ হয়।
মেয়ের সন্ধান পেতে হাসমত আলী ওই এলাকার ইউপি মেম্বার সাজু মিয়ার মাধ্যমে গত শুক্রবার সেখানে সালিস বৈঠক ডাকেন। কিন্তু ওই সালিস বৈঠকে আনারুল ও তার মা আনোয়ারা বেগম হাজির হননি। এমনকি আশপাশের কোথাও তাদের খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওইদিন মিঠাপুকুর থানায় জামাই ও তার মায়ের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হোসনার বাবা।
হাসমত আলী বলেন, মেয়ের সুখের জন্য বিয়েতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দেই। এর পর থেকে আনারুল কথায় কথায় মেয়েকে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করত। ভয়ে সে স্বামীর বাড়ি যাইতে চাইত না। আর এখন মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় মেয়ের লাশ পেলাম। আমি ঘাতক জামাই ও তার মায়ের ফাঁসি চাই।
মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুজ্জামান বলেন, ঘাতক আনারুল এতো দিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাশের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় অন্য যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.