
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৩টি জনবহুল রাস্তা ভেঙ্গে বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। বৃষ্টিতে কাদাজল আর শুষ্ক মৌসুমের ধুলাবালির ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ জনসাধারন। উপজেলার জায়গীর বাসস্ট্যান্ড থেকে রানীপুকুর, কোমরগঞ্জ বাজার থেকে বালারহাট এবং রানীপুকুর স্কুল এ্যান্ড কলেজগামী রাস্তার বেশ কিছু স্থান ভেঙ্গে গিয়ে হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। এলজিইডি’র তত্বাবধায়নে নির্মিত এসব রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রাস্তাগুলো সংস্কার করা হচ্ছে না। অথচ রাস্তাগুলোর ভাঙ্গা অংশ সংস্কার করলেই জনভোগান্তির নিরসন হয়। এসব ভাঙ্গা রাস্তা সংস্কার না করার কারনে ভ্যান, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন কোন রকমে চলাচল করলেও শষ্যভান্ডারখ্যাত উপজেলার উৎপাদিত সবজি ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহনের জন্য ট্রাকসহ বড় ধরনের যানবাহন বিকল্প পথে চলাচল করছে। এতো ভোগান্তি তবুও যেন দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে, রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের জায়গীর বাসস্ট্যান্ড থেকে রানীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদগামী সড়কের নাউয়ারমাল্লি নামক স্থানে সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত দেখা যায়। ব্যস্ততম এই রাস্তাটি গর্ত আর ভাঙ্গার কারণে ঝুকি নিয়েই চলাচল করছে অটোবাইক, ভ্যান-রিক্সা, মোটরসাইকেল এবং বড় যানবাহন। সম্পূর্ণ সড়কটি চলাচলের জন্য ভালো থাকলেও এক বছর আগে গ্যাসপাইপলাইন সংযোগের সময় রাস্তাটির ভোগান্তির অংশটুকু খোড়া হয়। কিন্তু আর সংস্কার করা হয়নি। এই পথ ধরে ৩ কিলোমিটার পরেই রাণীপুকুর বাজার। সেই বাজারের পাশ দিয়ে রানীপুকুর স্কুল এ্যান্ড কলেজগামী রাস্তার কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা যায়। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে ভাঙ্গন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণ চলাচল করেন। রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বেকায়দায় পড়েছে বিভিন্ন যানবাহনসহ পথচারীরা। একই অবস্থা উপজেলার কোমরগঞ্জ বাজার থেকে বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদগামী রাস্তার। এই পথে এনায়েতপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা পার হলেই সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত দেখা যাবে। এই রাস্তাটির প্রায় ২৫ ফিট অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। তারপরেও সমাধান মিলছে না। রাস্তাটি সংস্কার না করার কারণে মালবাহী বড় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অথচ সড়কটির সাথে বড় দুটি বাজারের সংযোগ রয়েছে। এরফলে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কথা হয় রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজ, জায়গীরহাট স্কুল এন্ড কলেজ ও এনায়েতপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী মোরসালিন হাসান, ফয়সাল শিহাব, তানিশা জান্নাত, রায়হান মিয়া, মাহিন হাসান, লামিয়া আক্তারসহ আরও কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, রাস্তাগুলো ভাঙ্গার কারণে তাদের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াত করতে কষ্ট হয়। তারা রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামত করে দেয়ার কথা বলেন।
বই ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রানীপুকুর বাজারে আমার বইয়ের লাইব্রেরী। আমাকে প্রতিদিন কলেজগামী রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক। ভাঙ্গা স্থানগুলোতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
বালারহাটের ব্যবসায়ী গোলাপ মিয়া বলেন, ভাঙ্গা রাস্তার কারণে আমাদের ছয়-সাত মাইল ঘুরে মালামাল নিয়ে আসতে হয়। এতে আমাদের খরচ বেশী হচ্ছে। এমন দুরাবস্থাপূর্ণ রাস্তা পুরো উপজেলায় আর আছে বলে আমার মনে হয়না।
জায়গীর এলাকার অটোচালক আল আমিন বলেন, প্রায় দেড়বছর হয় রাস্তা খুড়ছে, আর ঠিক করে নাই। সরকার গ্যাসলাইন দিছে সেটা অনেক ভালো কাজ। আমাদের এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মতো অটোচালক এবং গরীব মানুষকে কষ্ট দিয়ে কি সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। রাতের অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবুও এই ভাঙ্গা জায়গাটুকু ঠিক হয়না, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই।
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন বলেন, রাস্তাগুলোর ভাঙ্গন ঠেকাতে সড়ক বিভাগ ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের দায়িত্বশীলদের আরও আন্তরিক এবং সচেতন হতে হবে। রাস্তা সংলগ্ন যদি পুকুর থাকে সেখানে গাইডওয়াল না থাকার কারনেও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনেও অনেকসময় রাস্তাঘাট ভেঙ্গে য়ায়। যত দ্রুত সম্ভব জনদূর্ভোগ নিরসন করা প্রয়োজন।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জান বলেন, ভাঙ্গা রাস্তাঘাট সংস্কার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সড়কগুলো সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
এম২৪নিউজ/কবীর
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.