
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামে একটি শতবর্ষী রাস্তায় ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে ছয়টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। রাস্তা বন্ধ করার কারণে গত ১৫ দিন ধরে ৬টি পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনযাপন করছেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেমেয়েরাও বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার এরশাদ মোড়-রংপুর দর্শনা আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে নাসিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জোবেদা বেগমের বাড়িতে ঢোকার একটি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা রয়েছে। জোবেদার বাড়ির আশেপাশে গোলাম কিবরিয়া, গোলাম রব্বানী, গোলজার হোসেন ও আল আমিনের আরও ৫ টি বাড়ি রয়েছে। তারা শত বছর ধরে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে সেই রাস্তায় নিজের জমি রয়েছে দাবি করে ইটের প্রচীর নির্মাণ করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত. মছির উদ্দিনের ছেলে খোরশেদ আলম (৪০) ও খলিরুর রহমানসহ (৫৫) তাদের সহযোগীরা। রাস্তা বন্ধের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ইউএনও, এসিল্যান্ড, মিঠাপুকুর থানা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও সমাধান মেলেনি।
সরেজমিনে অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাপ-দাদার আমল থেকে গ্রামের লোকজন রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছে। উপজেলার নাসিরাবাদ মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৮৬৯ নং দাগে ৪ শতক জমি রাস্তার জন্য স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী খোরশেদ আলম তার বাড়ির পাশে জাহাঙ্গীরের বসতভিটায় নিজের জমি রয়েছে দাবি করে একটি টিনের ঘর সরাতে বলেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রভাবশালী খোরশেদ তার লোকজন নিয়ে রেকর্ডীয় রাস্তায় তার জমি আছে দাবি করে ইটের প্রচীর দিয়েছেন। এতে গ্রামের ৬টি পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অবরুদ্ধ পরিবারের গৃহিনী জোবেদা ও নাজমা বেগম জানান, তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওয়াল টপকে চলাচল করছেন। সন্তানরাও ভয় আর শঙ্কা মাথায় নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছেন। যারা রাস্তা বন্ধ করেছেন তারা গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ায় কউে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি অভিযোগ দেওয়ার পরেও প্রশাসন কিছুই করছে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খোরশেদ আলম জানান, বর্তমানে রাস্তার পাশে তার জমি রয়েছে। তার বাড়ির পাশে জাহাঙ্গীরে বাড়ি সেখানে তার জমি সামান্য জমি রয়েছে। জাহাঙ্গীর ঘর সরিয়ে নিয়ে জমি খালি করছেন না বলে তিনি প্রচীর দিয়েছেন।
একজনের জন্য অন্যান্য পরিবার কেন ভোগান্তির শিকার হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটা প্রশাসন বুঝবে। পুলিশ এসে তো দেখে গেছে। আমার তো কিছু হয়নি। ভুক্তভোগীদের চারপাশে খোরশেদের জমি প্রয়োজনে সবদিকে প্রচীর নির্মাণের কথাও জানান তিনি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। জমিজমা বা রাস্তার বিষয়গুলোতে এসিল্যান্ড অফিস সংশ্লিষ্ঠ। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, কারও রাস্তা বন্ধ করা অমানবিক কাজ। গায়ের জোরে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে এমনটি প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.