
মোঃ শামীম আখতার ||
মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুরে এলজিইডি’র তত্বাবধায়নে নির্মিত একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী সহ জনসাধারন। বেশ কিছু স্থান ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সড়কটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কিছু অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার কারনে ভ্যান, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন কোন রকমে চলাচল করলেও ট্রাকসহ বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক সংলগ্ন পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল না থাকার কারনে বড় বড় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভাঙ্গন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুকুর পাড়ে/সড়কের ধারে গাইড ওয়াল নির্মাণের দাবি জানান তারা।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদাগঞ্জ পর্যন্ত ৯.৬৮ কিলোমিটার পাকা সড়কটি ২০১৩ সালের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে এলজিইডি। আইআরডিবি, আরডিবি-২ ও আরডিবি-২১ প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সড়কটি সংস্কার করা হয় ২০১৭ সালে। এরপর থেকে আর সংস্কার হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পদাগঞ্জ-খোড়াগাছ থেকে রাণীপুকুর হয়ে জায়গীর-মিঠাপুকুর অল্প সময়ে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি রাণীপুকুর বাজার সংলগ্ন কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষের চলাচল। সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বেকায়দায় পড়েছে বিভিন্ন যানবাহন সহ পথচারীরা।
[caption id="attachment_39198" align="aligncenter" width="600"]
রাণীপুকুর-পদাগঞ্জ সড়কের রাণীপুকুর বাজার সংলগ্ন ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বড় যানবাহন চলাচল। দুর্ভোগে পড়েছে পথচারীরা। ছবি- এম২৪নিউজ[/caption]
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পীচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাণীপুকুর এলাকার বেশ কিছু স্থানে ভাঙ্গন বেশি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীরা। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজ ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী রায়হান মিয়া, মাহিন হাসান, লামিয়া বেগম সহ কয়েকজন জানান, রাস্তাটির বেশির ভাগ স্থানই ভেঙ্গে গেছে। যার কারনে স্কুলে যেতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। আমরা চাই রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করে দেয়া হোক।
স্থানীয় বই ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান ফুয়াদ (মাষ্টার) বলেন, সড়কের ধারেই আমার বইয়ের লাইব্রেরী। আমাকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। ভাঙ্গা স্থানগুলোতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
কাপড় ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, রাস্তাটির অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ার কারণে পথচারীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। এমন দুরাবস্থাপূর্ণ রাস্তা পুরো উপজেলায় আর আছে বলে আমার মনে হয়না।
পথচারী জুয়েল মিয়া জানান, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। রাতের অন্ধকারে চলাচল করতে গিয়ে এলাকার লোকজন দুর্ঘটনার কবলেও পড়ে।
ভ্যান চালক আশিকুর রহমান বলেন, রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে কিছু কিছু স্থানে যাত্রী নামিয়ে অনেক কষ্ট করে ভ্যান পার করতে হয়। এ রাস্তাটি যেন দেখার কেউ নেই।
রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সদস্য ও রাণীপুকুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। কারণ রাণীপুকুর প্রাইমারী ও স্কুল এন্ড কলেজ সহ বিভিন্ন বে-সরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের এই ভাঙ্গা পথ দিয়েই চলাচল করতে হয়। এছাড়া, সড়কের এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের বেশ ক্ষতি হচ্ছে।
[caption id="attachment_39196" align="aligncenter" width="600"]
রাণীপুকুর-পদাগঞ্জ সড়কের রাণীপুকুর বাজার সংলগ্ন ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বড় যানবাহন চলাচল। দুর্ভোগে পড়েছে পথচারীরা। ছবি- এম২৪নিউজ[/caption]
রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তার ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। পথচারীদের ভোগান্তিও বেড়েছে। রাস্তাটি সংস্কার হওয়া খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।
রাণীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ফরহাদ পুটু বলেন, মূলত. পুকুরের কারণে ওই স্থানে বেশি ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণের ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জান বলেন, অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট সংস্কার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.