
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে খড়ের গাদায় নিজেরাই আগুন লাগিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও, সরেজমিনে তদন্ত ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে মামলা রেকর্ডভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে মিঠাপুকুর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বিষ্ণু পদ রায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কাফ্রিখাল গ্রামে।
এলাকাবাসি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কাফ্রিখাল গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মিল্টন মিয়ার সাথে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে একই গ্রামের তবিবুর রহমান, সাহেব আলী, শরিফুল ইসলাম, ফজলু মিয়া, হাফিজার রহমান ও আজিজার রহমানের।
বিভিন্ন ঘটনায় ইতোপূর্বে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ৬ বার শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু, কোন পক্ষই ওই শালিস বৈঠকের আপোষ-মিমাংসায় একমত হতে পারেনি। এরফলে, পক্ষ-বিপক্ষে বিরোধ আরও চরমে ওঠে।
গত ২১ জানুয়ারী রাত দেড়টায় মিল্টন মিয়ার চাচা আলমগীর মিয়ার খড়ের গাদায় আগুন লাগে। এরই সূত্র ধরে মিল্টন মিয়া ওই গ্রামের ৬ জনকে আসামী করে ২২ জানুয়ারী তড়িঘড়ি করে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বিষ্ণু পদ রায় সরেজমিনে তদন্ত ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় আফছার আলী বলেন, ‘মিল্টন মিয়ার সাথে বিরোধের জের ধরে গভীর রাতে নিজের খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে প্রতিক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।’
তবিবুর রহমান বলেন, অন্যায় ভাবে বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রভাবশালীরা আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তারা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন।
সরেজমিনে কাফ্রিখাল গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে, ছোট একটি খড়ের গাদায় আগুনে অংশিক পুড়িয়ে গেছে। মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এজাহারে ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি উল্লেখ করে মামলা করেন মিল্টন মিয়া।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অধিনায়ক কাজল মিয়া বলেন, খড়ের গাদায় আগুনের ঘটনায় ১০ হাজার টাকা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
মামলার বাদী মিল্টন মিয়া বলেন, প্রতিপক্ষরা দির্ঘদিন ধরে আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে তারা আগুন লাগিয়েছিল।
মিঠাপুকুর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বিষ্ণু পদ রায় বলেন, তদন্তে কি পাওয়া গেছে, সেটি বলব কেন? উৎকোচ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনার যা ইচ্ছে তাই লিখতে পারেন।’
মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুজ্জামান উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত করেই মামলা রেকর্ডভুক্ত করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে। মিথ্যা প্রমাণ হলে, বাদীর বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.