
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরের ঘাঘট নদীর ভাঙ্গণের কবলে পড়েছে পাঁচশ বছরের পুরোনো কবরস্থান ও মসজিদ। এছাড়াও, নদীতে বিলিন হয়েছে একশ একর ফসলী জমি ও বসতভিটা। এরফলে নিদারুন কষ্টে জীবনযাপন করছেন ঘাঘট পাড়ের মানুষগুলো। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙ্গণ মোকাবেলায় সংগ্রাম করেও কোন সুরাহা পাননি গ্রামবাসী। এরফলে তারা গঠন করেছেন নদীর ডানতীর রক্ষা কমিটি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান এমপি ভাঙ্গণ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য ডিও লেটার প্রদান করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরফলে চলতি মৌসুমে ফের ভাঙ্গণের আশঙ্কায় রয়েছে বালারহাট ইউনিয়নের খোর্দ্দ কোমরপুর ও বুজরুক কোমরপুর ঘাঘটপাড় গ্রামের মানুষগুলো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাঘট নদী উত্তর হতে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে পূর্বেদিকে বাক নিয়েছে। এই বাকের মধ্যে পড়েছে খোর্দ্দ কোমরপুর ও বুজরুক কোমরপুর ঘাঘটপাড় গ্রাম।
একটা সময় গ্রাম দু’টিতে একসময় ছিল জনমানবপূর্ণ। বেশ পুরোনো গ্রামে এখন খুব বেশি মানুষ বসবাস করেনা। প্রায় হাজার খানেক মানুষের বাস। অনেকে গ্রামের উত্তরপাশে আবাদী জমিতে বসতবাড়ি স্থাপন করেছেন। সেখানেই থাকেন তারা। গুটিকয়েক বাড়ি রয়েছে নদীর তীরবর্তি এলাকায়।
অনেকে একাধীকবার বাড়ি স্থানন্তর করেও রক্ষা পায়নি ভাঙ্গণের কবল হতে। তিব্র ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে পাঁচশত বছরের কবরস্থান ও একটি মসজিদ। ইতোমধ্যে, কবরস্থানটির অনেকাংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বাকিটুকু বাঁচাতে গ্রামবাসীর আকুতির শেষ নেই।
ওই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, খোর্দ্দ কোমরপুর ও বুজরুক কোমরপুর গ্রাম মিলে ঘাঘটপাড় নামে একটি পাড়া। এই গ্রামের পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে। প্রায় পাঁচশ বছর আগেরকার এই কবরস্থান ও একটি মসজিদ। কয়েক বছরের নদী ভাঙ্গণের ফলে কবরস্থানের প্রায় অর্ধেকটা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। দু’এক বছরের মধ্যে পুরোটা বিলিন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছি আমরা।
ভাঙ্গণের শিকার আবদুল বাতেন, আমার বাড়ি এ পর্যন্ত ৫/৬ বার নদীতে ভেঙ্গে গেছে। আবারও আশঙ্কায় রয়েছি নদী ভাঙ্গণের। এখানে স্থায়ীভাবে বøক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ নাহলে গোটা গ্রামটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।
ভাঙ্গণের শিকার আরেক ভুক্তভোগী শাহাদৎ হোসেন বলেন, অতিশিঘ্রই বাঁধ নির্মাণ করা দরকার। শত বছরের কবরস্থান ও মসজিদটি আমাদের ঐতিহ্য। এটি বাঁচানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরি।
ভাঙ্গণের শিকার সিরাজল ইসলাম, ছফির উদ্দিন, হাজী ছমির উদ্দিন ও খলিল মিয়া বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষের কবরগুলো নদীগর্ভে অর্ধেকটা বিলিন হয়ে গেছে। বাকিটা সংরক্ষণ করা জরুরি। আমার মসজিদ ও কবরস্থানটি জন্য বাঁধ নির্মাণ চাই।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.