
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুর উপজেলার কুমরগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একতলা একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ হয়েছিল প্রায় ৩০ বছর আগে। ভবনটির অনেকাংশে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কয়েকটি পিলার ও ছাদেও দেখা দিয়েছে ফাটল। বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি। তারপরও ভবনটির উপরে নির্মাণ হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা। এরফলে বেশ উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ করার কোন যৌক্তিকতা নেই। যেকোন সময় অঘটন ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমরগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বদিকে একতলা একটি একাডেমিক ভবন। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত ভবনটি বেশ জরাজীর্ণ। পুরো ভবণজুড়ে শ্যাওলার আস্তরণ। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ভবনটির বেশকিছু অংশে পলেস্তারা খসে পড়েছে। ছাদ ও কয়েকটি সিঁড়িতে দেখা দিয়েছে ফাটল, ভেঙে গিয়েছে কিছু অংশ। এর উপর হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজ। পুরোদমে চলছে কর্মযজ্ঞ। প্রথম তলার ডিজাইনের সাথে মিল নেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার। কয়েক ইঞ্চি করে সরে গিয়েছে ভবনটির উপরের তলাগুলো।
[caption id="attachment_36069" align="aligncenter" width="580"]
মিঠাপুকুরে ৩০ বছর আগের জরাজীর্ণ ভবনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ। -M24News[/caption]
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর হতে ভবনটি নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যায়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি করছেন দিনাজপুরের ঠিকাদার এমএ ছায়েদ। যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি কাজটি সাব কন্ট্রাক দিয়েছেন স্থানীয় রিপুল মিয়া নামে একজন ঠিকাদারকে। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের লোকজন এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছেন। আমাকে কাজ করতে বলছেন, আমি ইস্টিমেট অনুয়ায়ী কাজ করছি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরোনো একাডেমিক ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। কয়েক বছর পরে ভবনটি ঝঁকিপূর্ণ দৃশ্যমান হবে। যেকোন সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে। স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোছাদ্দেক হোসেন বিল্লাহ্ বলেন, বহু বছর আগে ভবনটির প্রথমতলা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও এটির উপর কিভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা নির্মাণ হয়, বুঝে আসছেনা।
অভিভাবক আশিকুর রহমান ও তৈয়ব আলী বলেন, স্কুলের একাডেমিক ভবনটি বহু বছর আগে নির্মিত। ঝঁকিপূর্ণ ভবনটিতে আবারও দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা নির্মাণ কাজ চলছে। কয়েক বছরের মধ্যে ভবনটি অকেজো হয়ে যাবে। কখনও যদি দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে দায়ভার কে নিবে?
আরেক অভিভাবক রুবেল মিয়া বলেন, আমরা খুবই চিন্তিত। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের উপর নির্মাণ করা হচ্ছে। দূর্ঘটনা ঘটলে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। শিক্ষার্থী মাছুম মিয়া, মোতাক্কিন ও সোহান মিয়া বলেন, পুরাতন ভবনের উপর নতুন ভবন হচ্ছে। আমরা আতঙ্কিত, কখন কি ঘটে। আমরা চাই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
কুমরগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম লেবু বলেন, আমরা নতুন করে ভবন নির্মাণের কথা বলেছিলাম। কিন্তু, বরাদ্দ এসেছে পুরাতন ভবনটি উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ করার জন্য। আমাদের কিছু করার নেই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার দেখবে। আমার কাজ হচ্ছে ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা বুঝে নেওয়া, আমি সেটি করছি। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়াররা বুঝবে ভবনটি পরবর্তীতে কি হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের রংপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, আমি মিটিং এ আছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.