
নিউজ ডেস্ক:
কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় পুরোদমে চলছে বোরো ধান রোপণ। মাঘের তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে জমিতে হালচাষ, সেচ দিয়ে জমি ভেজানো, বীজতলা থেকে ধান চারা তুলে আনা ও কর্দামাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা।
এখানে বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে প্রতি বিঘা জমিতে বোরো চারা রোপণে দিনমজুররা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
গত বছর কয়েক দফার বন্যায় কুড়িগ্রামে অধিকাংশ আমন ক্ষেত নষ্ট হয়। এতে কৃষকরা পড়েন চরম বিপাকে। বিশেষ করে এখানকার চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের গৃহপালিত পশুর প্রধান খাদ্য ধানের খড় নিয়ে পড়েন বিপাকে। তাই আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা এবার বোরো চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নামেন।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন, গোলাম মিয়া, আব্দুল হামিদসহ অনেকে বলেন, আমরা ধরলা নদী বেষ্টিত এলাকার মানুষ। গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় আমাদের আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তারা বলেন, আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি পরিমাণ জমিতে এবার সাধ্যমতো বোরো চাষ করছি। শ্রমিক মূল্য, হাল চাষ ও সেচ খরচ বেশি দিয়ে হলেও আমরা এবার অনেকটা কোমর বেঁধে বোরো চাষে মাঠে নেমেছি।
স্থানীয় দিনমজুর আশরাফুল হক বলেন, বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় আমরা উপার্জনের পথ ফিরে পেয়েছি অন্যান্যবারের চেয়ে বোরো চাষ বেড়ে গেছে এখানে। ফলে শ্রমিক সংকটে পারিশ্রমিকের হার বেড়েছে।
অপর দিনমজুর মনছুর আলী বলেন, বোরো মৌসুমে শ্রমিকের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে এখানে। আমরা বিঘাপ্রতি বোরো চারা রোপণে পারিশ্রমিক পাচ্ছি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে আমাদের আয় বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কুড়িগ্রামে নয়টি উপজেলায় এবার ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এখানে বোরো চারা রোপণ কার্যক্রম শেষ হবে।
তিনি আরো বলেন, কুড়িগামে গত বছর দফায় দফায় বন্যায় ৯টি উপজেলায় আমনের ক্ষতি হয় ৫ হাজারের বেশি হেক্টর আমন ক্ষেত। এবার কৃষকরা তাদের আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে বোরো চাষে মাঠে নেমেছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.