
অনলাইন ডেস্ক:
নওগাঁর রাণীনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে সূর্যমুখি ফুলের বাণিজ্যিক চাষ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল আকারের হলুদ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের জমি। কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল। তাই দিনভর সূর্যমুখী ফুলের জমিতে ভিড় করছে হাজারো মানুষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ৮টি উপজেলায় মোট ৩০০বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে অধিক লাভজনক ও সম্ভাবনাময় এই সুর্যমুখী ফুল। উপজেলার মিরাট, গোনা ও কাশিমপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখীর চাষ বেশি হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে সূর্যমুখি ফুল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রনোদনা প্রদানের মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হচ্ছে। আগামীতে এই ফসলের চাষ আরও বাড়বে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে নতুন এই সূর্যমুখী চাষে কৃষকদেরকে আগ্রহী করে তুলছেন।
আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর চর এলাকায় বেলে ও দোঁআশ মাটিতে সেচের পানি এবং সার ব্যবহার করে একসময়ের পরিত্যক্ত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন। তেমনি মাঠজুড়ে প্রসার হচ্ছে এ আবাদ। এতে যেমন আয় ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি পরিত্যক্ত জমি কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছেন গরীব চাষীরা। বর্তমানে এই উপজেলার আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন চরে ৫০-৬০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের কোড়া বড় হয়ে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সূর্যমুখী ফুল চাষীরা এ ফুলের বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চান। তারা মনে করেন দেশে গড়ে উঠুক সূর্যমুখী বীজের তৈল উৎপাদনের কারখানা।
উপজেলার মিরাট গ্রামের কৃষক আলম, কামরুল হাসানসহ অনেকেই বলেন, এই অঞ্চলের কিছু মানুষ এমনিতেই কিছু জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতো। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সূর্যমুখী ফুলের বীজের চাহিদাও বেড়ে গেছে। তাই এই অঞ্চলের মানুষ এখন বাণিজ্যিক ভাবে এই লাভজনক আবাদের চাষ শুরু করেছেন। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন। আশা করছি বিগত সময়ের তুলনায় চলতি বছর সূর্যমুখী ফুলের বীজের ফলন অনেক ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন সূর্যমুখী ফুল একটি লাভজনক শস্য। তাছাড়া সূর্যমুখী বীজের তেল স্বাস্থ্যসম্মত। এই তেলে অন্যান্য তেলের চেয়ে পুষ্টিগুন অনেক বেশি। দিন দিন সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বাড়ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সূর্যমুখী তেল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। তাই বাজারে সূর্যমুখী বীজের অনেক চাহিদা থাকায় কৃষকরা সহজেই কম পরিশ্রমে ও কম খরচে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভবান হতে পারবেন। সূর্যমুখী ফুলের চাষের জনপ্রিয় করার লক্ষ্য কৃষি বিভাগ কাজ করে আসছে। চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ সরবরাহ করাসহ নানা পরামর্শ দিয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর জেলায় সূর্যমুখী ফুলের বীজের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.