
অনলাইন ডেস্ক:
ফলন বিপর্যয়ে লিচুচাষিদের হতাশার পর এখন বাজারে লিচু কিনতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন ক্রেতারা। লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর জেলায় বাজারে লিচু উঠলেও গত বছরের তুলনায় এবার দাম দ্বিগুণ। গত বছরের তুলনায় এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন প্রায় ৭০ শতাংশ কম হওয়ায় আকাশচুম্বী দামে লিচুর স্বাদ নিতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা। তাছাড়া অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লিচুর স্বাদ ও মানও কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গত বুধবার দিনাজপুরের বড় ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে লিচু উঠেছে, তবে অন্যান্য বারের তুলনায় লিচুর আমদানি বেশ কম। বাজারের অনেক দোকানই লিচুর অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেদানা জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতি শত প্রকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার ওপরে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচুর দাম চাওয়া হচ্ছে প্রতি শত প্রকারভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার ওপরে। গত বছর বেদানা জাতের লিচু বিক্রি হয় প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে এবং মাদ্রাজি জাতের লিচু বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে (প্রতি শত)। পরিপক্ব চায়না-থ্রিসহ অন্যান্য জাতের লিচু এখনো তেমন বাজারে ওঠেনি। আর বোম্বাই জাতের লিচুর ফলন এবার একেবারেই হয়নি।
দামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বড়মাঠ লিচু বাজারের ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, ‘বাগানগুলোতে এবার লিচু নেই। বাগান মালিকরা যে স্বল্প পরিমাণ লিচু বাজারে নিয়ে আসছে, প্রতিযোগিতার মুখে তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণেই বেশি দামে কিনে সামান্য লাভ রেখে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।’ তিনি স্বীকার করেন, দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই লিচু না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
বাজারের আরেক ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানান, এবার বাগানে লিচু নেই। যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছে, তা সপ্তাহান্তেই শেষ হয়ে যাবে। বাজারে লিচু কিনতে আসা আজাহার আলী নামের এক ক্রেতা জানান, বাজারে গত বছরের তুলনায় দাম দ্বিগুণ। ঝুড়ি, প্যাকিং আর কুরিয়ার খরচ দিয়ে প্রতি শত বেদানা লিচুর দাম পড়বে প্রায় ১ হাজার টাকা। তার মানে একটি লিচুর দাম ১০ টাকা। তাই পরখ করে নয়, দেখেই লিচুর স্বাদ মেটাতে হবে।
বড়মাঠ বাজারে লিচু বিক্রি করতে আসা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী এলাকার লিচুচাষি মো. মোসলেম উদ্দীন জানান, তার বাগানে মোট ১০০টি লিচুর গাছ রয়েছে। কিন্তু ফল ধরেছে মাত্র ২৫টি গাছে। অধিকাংশ গাছেই লিচুর ফলন না হওয়ায় হতাশ তিনি। তিনি আরো জানান, এমনিতে লোকসান। তার ওপর যেটুকু লিচুর ফলন এসেছে, সেটুকুর একটু বেশি দাম না পেলে তিনি চলবেন কীভাবে?
বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচুচাষি নুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার লিচুর ফলন নেই বললেই চলে। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়াগত কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। এবার মাত্র ৩০ শতাংশ গাছে ফলন হয়েছে। দিনাজপুরে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.