
অনলাইন ডেস্ক:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় অপহরণ করে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে অপহরণকারী ও নিকাহ রেজিস্ট্রারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, উপজেলার খাটুরিয়া এলাকার দবির উদ্দিনের ছেলে মানিক ইসলাম ও খাটুরিয়া সেন্টারপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি হাবিবুর রহমান।
ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতনের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় কয়েক মাস ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি মানিক। গত ২৮ মে ছাত্রীটি তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় উপজেলার মেলাপাঙ্গা এলাকায় দুপুরে মানিক তাকে অপহরণ করে মোটরসাইকেল যোগে নিকাহ রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে মেয়েটিকে জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এ সময় নিকাহ রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমান বলেন, আজ থেকে তোমরা স্বামী-স্ত্রী।
মানিক নাবালিকা মেয়েটিকে বিভিন্ন হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতে নিষেধ করে। এরপর মেয়েটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় একাধিকবার মেয়েটিকে জোর করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে ও ভয়ভীতি দেখায়।
গত সোমবার বিকেলে মেয়েটি তার নানা বাড়ি যাওয়ার সময় পাঙ্গা মটুকপুর মুছার মোড়ে আবারো তাকে মানিক জোর করে মটরসাইকেলে উঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে ওই এলাকার মানুষজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
ডোমার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটিকে উদ্ধার ও মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় মানিকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতে নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি হাবিবুর রহমানকে তার বাড়ি পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।
পরদিন মঙ্গলবার মেয়েটির বাবা বাবলু ইসলাম ডোমার থানায় নারী নির্যাতনের একটি মামলা করেন। এতে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গোপনে কিছু নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে শিশু বিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.