
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
করোনা ভাইরাসের কারণে এখনো বন্ধ রয়েছে রংপুর চিড়িয়াখানা। তাই কোলাহল মুক্ত অনুকুল পরিবেশে এই চিড়িয়াখানাটি যেন হয়ে উঠেছে পাখপাখালী আর বন্যপ্রাণির অভয়রন্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ৫ মাস থেকে দর্শনার্থীদের পদচারনা আর কোলাহল না থাকায় রংপুর চিড়িয়াখানার প্রকৃতি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পশু-প্রাণির অভয়রন্য। বন্যপ্রানিদের বিচিত্র হাক-ডাক আর পাখপাখালিদের কলোকাকলীতে যেন বদলে গেছে চিড়িয়াখানার চিরাচরিত দৃশ্য। অনেকটা শুয়ে বসে আরাম-আয়েশে আনন্দে এবং কোলাহল মুক্ত পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে খাচার ভিতর বন্যপ্রাণিরা।
দর্শনার্থীদের বিনোদনের মাত্রা বাড়াতে ইতিমধ্যে রংপুর চিড়িয়াখানায় এসেছে নতুন প্রাণি জলহস্তি কালা পাহাড়। ২১ বছর পর বন্ধুকে পেয়ে যেন দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা কেটেছে জলহস্তি নিয়মের।
এদিকে দীর্ঘদিন রংপুর চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় অনুকুল পরিবেশে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রজনন। ফলে পাখপাখালি ও বন্যপ্রাণির খাচাঁয় আনন্দের ভিন্নমাত্রা যোগ করে হরিণের বাচ্চা হয়েছে ১৫টি। কিছু দিনের মধ্যে ঘোড়া, গাধা আর সিংহ ও বকসহ বিভিন্ন পাখপাখিরও ঘরে হতে যাচ্ছে নতুন প্রজনন।
রংপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডাক্তার মোঃ আমবার আলী তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, চিড়িয়াখানার সমস্ত প্রাণি যেহেতু বন্যপ্রাণি। মানুষের আনাগোনা কম থাকায় প্রাণিগুলো স্বাচ্ছন্দ বোধ করছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রাণি যেগুলো জোড়া আছে, যেমন হরিণ, গাধা বাচ্চা উদপাদনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আগে যে রকম বাচ্চা হতো তার থেকে বেশী হচ্ছে।
সরকারী সিদ্ধান্তে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে রংপুরের সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দিলেও প্রাণি সম্পদ বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনোদন প্রেমিদের জন্য এখনো দাড় খুলতে পারেননি
রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার প্রধান গেটের ইজারাদার মোঃ হযরত আলী জানান, করোনার মহামারীর কারণে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পুরোটাই লোকসানে রয়েছে। ১২জন কর্মচারীকে বসায় রেখে প্রতিমাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা করে দিতে হচ্ছে। জানিনা করে নাগাদ রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা খুলে দেয়া হবে।
শিশুপার্ক ইজারাদার মোঃ রমহান আলী তুহিন জানান, রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানার অভ্যান্তরে শিশুদের জন্য নান্দনিক শিশু পার্ক গড়ে তুলেছি। করোনা ভাইরাসের কারনে গত ৫ মাস থেকে সে পার্কটি বন্ধ থাকায় প্রতিটি রাইড ও খেলনা গুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো পার্ক লোনা, মরিচা ও জঙ্গলে ভরে গেছে। পার্কটি চালু করতে হলে প্রতিটি রাইড ও খেলনাগুলো মেরামত করতে হবে। পুরো পার্ক রং, রাইড ও খেলনাগুলো মেরামত করতে প্রায় ৩০লাখ টাকা ব্যয় হবে। ইতি মধ্যে ১৫জন কর্মচারীর গত ৫ মাসের বেতন দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
রংপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডাক্তার মোঃ আমবার আলী তালুকদার জানান, মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনে আমাদের এই রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা। গত ২৬ শে মার্চ থেকে রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা বন্ধ রয়েছে। ইজারা যারা নিয়েছেন, তারা আমাদের কাছে পাওনা আছেন। বন্ধের কারনে ইজারাদারদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
করোনার মহামারীসহ সকল দূর্যোগ কাটিয়ে অচিরেই পথচারনায় মুখরিত হবে রংপুরের সবচেয়ে বড় বিনোদন কেন্দ্র রংপুর বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বিনোদন প্রেমিরা।
এম২৪নিউজ/আখতার
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.