
স্টাফ রিপোর্টার, কাউনিয়া (রংপুর):
রংপুরের কাউনিয়ায় অবিরাম ভারী বৃস্টিপাতে উপজেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল গ্রাম এলাকা তলিয়ে গিয়ে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত শনিবার রাত ১০টা থেকে আজ রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত একশ বছরেও হয়নি। এমন বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও দু’একদিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি আরও দু’একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী বর্ষণের ফলে বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক জায়গায় বতসভিটা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ জানান, রোববার সকাল ৯ টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে ৫২ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার একং কাউনিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ২৯ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার মাত্রায় প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বষর্ণে উজানে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে ভাটির চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত থেকে যেভাবে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে উপজেলার তিস্তার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একদিকে নদীর পানি বাড়ছে। অন্যদিকে শুক্রবার থেকে আজ বরিবার অবিরাম বৃষ্টির কারণে তার ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল গ্রামে সৃষ্ঠ বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃস্টির পানি অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শুধু টেপামধুপুর নয়, একই কথা জানালেন, হারাগাছ পৌরসহ ছয়টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে হারাগাছ পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি পানিতে পৌর ভবনের মাঠ সহ অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংস নিম্নাঞ্চল এলাকা গুলোতে সবেচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। বেশির ভাগ এলাকা এক থেকে দেড় ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পৌরএলাকা গফুরটারী, মধ্যপাড়া, মুন্সিপাড়া, মালিয়াটারী, তেলিটারী নামাদোলা, ফাতাংটারী, পাইকারবাজার, দর্জিপাড়া, পশ্চিম পোদ্দারপাড়া, ডাক্তারপাড়া, পল্লীমারী, নাজিরদহ, ধুমগড়াসহ অর্ধশতাধিক নিম্নাঞ্চল গ্রামের বসতভিটায় পানি উঠেছে। নিচু এলাকার বেশীর ভাগ বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হারাগাছ মধ্যপাড়া এলাক্রা বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন পুরো এলাকার মানুষ।
বিদ্যাপাড়া গ্রামের রহিম আলী বলেন, রাত থেকে অবিরাম বৃস্টিতে বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদুৎ সংযোগ। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষজন সহসাই পাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আহসান হাবীব সরকার জানান, অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যায় যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। সে ব্যাপারে সরকারীভাবে সকল ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।
এম২৪নিউজ/এসএ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.