
অনলাইন ডেস্ক:
উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার কারণে প্লাবিত হয়েছে পীরগাছা উপজেলার তিস্তা নদীর নিম্নাঞ্চল। এতে বাদাম, ভুট্টা, মরিচ ও পাটসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন আতঙ্ক। কয়েকটি গ্রামে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের গাবুড়ার চর, চর ছাওলা ও শিবদেব চরসহ কয়েকটি গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ছাওলা ইউনিয়নের আমিনপাড়া, কামারের হাট, রামসিং ও জুয়ানের চরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলের উঠতি ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলে কৃষকরা বাদাম তোলা শুরু করেছিল। শতাধিক কৃষক বাদাম তুলে চরেই শুকাতে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাত্ সোমবার রাতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি থেকে তুলে রাখা সব বাদাম ভেসে যায়। এতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের চাষ করা বাদাম, পাট, আগাম মরিচ ও ভুট্টাসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে গত কয়েক দিন ঝড়ো বাতাসসহ বৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগের রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত কালবৈশাখীসহ প্রচুর বৃষ্টি হয়। এতে বৃষ্টির পানি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানির তীব্রতা বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
উপজেলা জুয়ানের চর গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় হঠাত্ করে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। রাতের মধ্যে চরাঞ্চলের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভেসে যায় তুলে রাখা বাদাম। চর ছাওলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, আকস্মিকভাবে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাদাম, ভুট্টা ও পাটসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে বাদামের প্রচুর ক্ষতি হবে। তবে পাট ও ভু্ট্টাসহ অন্যান্য ফসল পানির নিচে নিমজ্জিত হলেও পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শামীম আখতার | বার্তা বিভাগ- মেইল- m24newsdesk@gmail.com | @ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Copyright © 2026 M24News । Rangpur. All rights reserved.